ভোগ্যপণ্য থেকে শুরু করে ভ্রমণ ও খনি শিল্পসহ সব খাতের কোম্পানিগুলোয় এখন উচ্চ খরচ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। সংঘাতের ফলে আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে রঙ ও উড়োজাহাজ কোম্পানিও। খবর রয়টার্স।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া যুদ্ধের আগে থেকেই অনেক কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও উচ্চ উৎপাদন ব্যয়ের কারণে চাপে ছিল। বর্তমান সংঘাত সে সংকটকে আরো ঘনীভূত করেছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হয়। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটিতে অস্থিরতা চলায় কাঁচামাল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কোম্পানি বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখলেও কর্মকর্তারা জানান, পরিবহন ও কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।
বিখ্যাত রঙ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ডুলাক্সের মালিকানাধীন কোম্পানি আকজোনোবেল জানায়, যুদ্ধের ফলে কোম্পানির সরবরাহ খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আকজোনোবেলের প্রধান নির্বাহী গ্রেগ পক্স-গুইলাম বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে আমাদের কাঁচামালের খরচ প্রায় ২০ শতাংশের কাছাকাছি বেড়ে যেতে পারে।" সংকটের পূর্ণ প্রভাব অনুভূত হবে আগামী দুই প্রান্তিকে।’
বিনিয়োগকারী ও অর্থনীতিবিদরা এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তারা দেখছেন কোম্পানিগুলো ধাক্কা সামলে নিতে পারে কিনা।
রেমন্ড জেমসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ল্যারি অ্যাডাম বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম টানা চড়া থাকলে ঝুঁকি আরো বাড়বে। বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) ফলাফলে যুদ্ধের মাত্র এক মাসের প্রভাব দেখা গেছে। তাই সামনের দিনগুলোয় পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখতে হবে।’
এদিকে ইরান কর্তৃক কনটেইনার জাহাজ জব্দের ঘটনার পর গত বুধবার মার্কিন শেয়ারবাজার ও জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে।
ফাস্ট এভিনিউ ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ব্রায়ান ম্যাডেন বলেন, ‘যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, কোম্পানিগুলো তত বেশি লোকসানের মুখে পড়বে এবং আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনবে। বাজারে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে বাড়তি খরচের বোঝা সরাসরি ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে এবং বিশ্বজুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।’
কিন্তু সাধারণ পণ্য উৎপাদনকারী ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ বাড়তি খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান ব্রায়ান ম্যাডেন। তিনি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় সাপ্লাই চেইন সংকটে পরিণত হয়েছে।’










