হংকংয়ের অর্থনীতি গত বছরের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে ৪ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছে। এটি চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং প্রথম প্রান্তিকে ২ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধির চেয়ে বেশি ছিল। অভ্যন্তরীণ পর্যটন এবং বেসরকারি ব্যয় বাড়ায় এমনটা ঘটেছে। এটা অব্যাহত থাকলে বছরের বাকি অংশে আরো প্রবৃদ্ধির দেখা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর ইয়াহু ফাইন্যান্স।
তবে সরকার পুরো বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। নতুন পূর্বাভাস ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এর আগে তারা ৪-৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস করেছিল। ২০২১ সালে দেশটির অর্থনীতি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।
সরকারি অর্থনীতিবিদ অ্যাডলফ লেউং জানান, বেসরকারি ব্যয়, উন্নত পারিবারিক আয় এবং সরকারি সহায়তা প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে আরো পর্যটক আসতে পারে। কঠিন বাহ্যিক পরিস্থিতির কারণে রফতানি ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং চলমান বৈশ্বিক কঠোর মুদ্রানীতির কথাও উল্লেখ করেন।
সেপ্টেম্বরে ২৭ লাখ ৭০ হাজার পর্যটক হংকং ভ্রমণে এসেছে, যা ২০২৩ সালের প্রথম নয় মাসে মোট ২ কোটি ৩৩ লাখ পর্যটকে পৌঁছেছে। এটি আগের বছরের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য উন্নতি।
অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ইতিবাচক থাকা সত্ত্বেও ন্যাটিক্সিসের এশিয়া প্যাসিফিক সিনিয়র অর্থনীতিবিদ গ্যারি এনজি জানান, পর্যটন বহির্গমন এবং দুর্বল রফতানি সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
ফাইন্যান্সিয়াল সেক্রেটারি পল চ্যান একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে বলেন, ‘উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।’
গত প্রান্তিকের তুলনায় এপ্রিল-জুনে ১ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার পর জুলাই-সেপ্টেম্বরের মধ্যে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ১ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে।
অর্থনীতিবিদ স্যামুয়েল সি জানান, চীন ও বিশ্বব্যাপী দুর্বল চাহিদার কারণে হংকংকে রফতানি লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সুদহার কমানোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা।
হংকং মূল্যস্ফীতির জন্য তার পুরো বছরের পূর্বাভাস কমিয়েছে। অন্তর্নিহিত ভোক্তা মূল্যস্ফীতি এখন ২ থেকে কমে ১ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকৃত মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ৪ থেকে কমে ২ দশমিক ২ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।










