মুনাফা বাড়ছে চীনা বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) ব্যাটারি নির্মাতা সিএটিএলের। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মুনাফা তিন গুণের কাছাকাছি উন্নীত হওয়ার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বজুড়ে ইভির শক্তিশালী চাহিদা সংস্থাটিকে ব্যাটারি উৎপাদন বাড়াতে প্ররোচিত করছে।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ইভি ব্যাটারি বাজারের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে সিএটিএল। বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাটারি নির্মাতাটি তৃতীয় প্রান্তিকে ৮৮০ কোটি ইউয়ান (১২৩ কোটি ডলার) থেকে ৯৯০ কোটি ইউয়ান নিট মুনাফার আশা করছে। এ মুনাফা গত বছরের একই সময়ে ৩৩০ কোটি ইউয়ান থেকে অনেক বেশি। সম্প্রতি স্টক ফাইলিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিএটিএল আশা করছে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে নিট মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে। সংস্থাটি ফাইলিংয়ে বলেছে, আগের পরিকল্পিত সক্ষমতার পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তৃতীয় প্রান্তিকে উৎপাদন ও বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি বিশ্ববাজারে অগ্রণী অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। ফলে মুনাফাও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে সংস্থাটির মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে আয়ও ১৫৬ শতাংশ বেড়েছে।

সিএটিএল ইউরোপের মার্সিডিজ বেঞ্জ ও বিএমডব্লিউ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ডসহ বড় গাড়ি নির্মাতাদের ব্যাটারি সরবরাহ করছে। পাশাপাশি সংস্থাটি বিদেশী বাজার সম্প্রসারণে মনোযোগ বাড়িয়েছে। সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত থাকায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাজারে ইভির চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ব্যাটারির ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সিএটিএল সরবরাহকারীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করছে। পাশাপাশি সংস্থাটি উপকরণ পুনর্ব্যবহার এবং ব্যাটারির মূল্য নির্ধারণে সংস্থাটি গাড়ি নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনাসহ নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এর আগে গত আগস্টে চীনা প্রতিষ্ঠানটি হাঙ্গেরিতে ৭৬০ কোটি ডলার ব্যয়ে একটি ব্যাটারি কারখানা তৈরির ঘোষণা দিয়েছিল। এটি হবে ইউরোপের বৃহত্তম এবং সংস্থাটির তৃতীয় ইভি ব্যাটারি তৈরির কারখানা।

চীনে কয়েকটি কারখানার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ইউরোপে কিছু সহায়ক কারখানাও স্থাপন করেছে সিএটিএল। সংস্থাটি চীনের শানডং ও ফুজিয়ান প্রদেশে দুটি ব্যাটারি উৎপাদন প্রকল্পে ২ হাজার ৭০০ কোটি ইউয়ান (৩৮০ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করেছে।

সিএটিএল চলতি বছরের শেষদিকে জার্মানির এরফুর্ট শহরে প্রথম ইউরোপীয় কারখানায় ইভি ব্যাটারির উৎপাদন শুরু করবে। তবে এ মহাদেশে কারখানাটি চালু রাখতে জ্বালানি সংকট বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের কারণে গ্যাসের দাম বৃদ্ধিও এ চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। জার্মানি যুদ্ধের আগে মোট গ্যাসের অর্ধেকেরও বেশি রাশিয়া থেকে সরবরাহ পেত।