কভিড-১৯ মহামারী-উত্তর সময়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতি অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ও দ্রব্যমূল্যের দামকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েক দফায় সুদের হার বাড়িয়েছে ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ বছরের সর্বোচ্চ সুদহার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খবর বিবিসি।

সম্প্রতি মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় শতাংশীয় পয়েন্টের তিন-চতুর্থাংশ ‘কি ইন্টারেস্ট রেট’ বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত করেছে ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ। মার্চের পর এটি তৃতীয়বারের মতো এবং ১৯৯৪ সালের পর এটি সর্বোচ্চ সুদহার বৃদ্ধির ঘটনা। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধির পর সুদহার বাড়ানোর এ ঘোষণা দিল ইউএস ফেড। এ সময় সামনের মাসগুলোয় সুদহার আরো বাড়ানোর মতো দৃশ্য দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফেডারেল ব্যাংকের বৈঠকের পর বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন চলতি বছরের শেষ নাগাদ কি ইন্টারেস্ট রেটের হার ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত দাঁড়াতে পারে। আগামী বছর নাগাদ এ হার ৪ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ বন্ধকি ঋণ, ক্রেডিট কার্ডসহ অন্যান্য ঋণের ক্ষেত্রে জনসাধারণের খরচের হার বাড়িয়ে তুলবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। যেখানে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও পরিবারগুলো এত দিন কম খরচে ঋণ উপভোগ করছিল।

এদিকে এপ্রিলে যুক্তরাজ্যের ভোক্তা ব্যয় বেড়েছে ৯ শতাংশের মতো। গত বছরের ডিসেম্বরের পর গতকাল পঞ্চমবারের মতো সুদহার বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ার কথা জানিয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। ফলে ২০০৯-এর পর বেঞ্চমার্ক রেট ১ শতাংশের বেশি দাঁড়াবে। চলতি গ্রীষ্মের শেষ দিকে সুদহার বাড়ানোর কথা ভাবছে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকও।

২০২০ সালে করোনা মহামারী শুরুর পর সুদহার কমিয়েছিল ইউএস ফেড। সে সময়ের অর্থনৈতিক অবস্থাকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে চলতি বছরে দুবার সুদহার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ। মার্চে দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট ও মে মাসে আরো দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদহার বাড়ায় ইউএস ফেড।