১৯৮৭ সালের পর প্রথমবারের মতো সিডি বিক্রিকে ছাপিয়ে গেল ভিনাইল রেকর্ড। বিশ শতকের জনপ্রিয় সংগীতমাধ্যম ছিল এটি। অথচ আশির দশকে ক্যাসেট ও সিডির আধিপত্যে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছিল। তবে একবিংশ শতাব্দীতে যেন ফিরে আসছে পুরনো দিন। এমনটাই উঠে এসেছে সম্প্রতি প্রকাশিত রেকর্ডেড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার (আরআইএএ) প্রতিবেদনে। খবর বিবিসি।
আরআইএএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে ৪ কোটি ১০ লাখ ভিনাইল রেকর্ড বিক্রি হয়েছে। যার মূল্যমান ১২০ কোটি ডলার। বিপরীতে সিডি বিক্রি হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ। যার মূল্যমান ৪৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ভিনাইল রেকর্ড বিক্রি ধারাবাহিকভাবে ১৬তম বছরের মতো বাড়ছে, যা ফিজিক্যাল রেকর্ড বিক্রি হওয়া আয়ের ৭১ শতাংশ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে টানা সপ্তম বছরের মতো বেড়েছে রেকর্ডেড সংগীতের বাজার। তৈরি হয়েছে ১ হাজার ৫৯০ কোটি ডলার আয়ের নতুন রেকর্ড।
২০২২ সালে রেকর্ডেড সংগীতে আয় বেড়েছে ৬ শতাংশ। যদিও বর্তমান সময়ে স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের জনপ্রিয়তাই শীর্ষে। তার পরও ফিজিক্যাল সংগীতের অবস্থান মোটেও উপেক্ষা করার মতো নয়। কয়েক দশক ধরে প্রতিনিয়ত ফিজিক্যাল সংগীতের বিক্রি বাড়ছে। ২০২১ সালে নভেল করোনাভাইরাসের আঘাতে কিছুটা মন্থর ছিল অবশ্য। ২০২২ সালেই বিস্ময়কর দ্রুততায় ফিরে পেয়েছে গতি। গত বছর ফিজিক্যাল মিউজিকের ব্যবসা ছিল মোট ব্যবসার ৪ শতাংশ। ভিনাইল রেকর্ড বেড়েছে ১৭ শতাংশ। বিপরীতে সিডির বিক্রি কমেছে ১৮ শতাংশ।
ডিজিটাল ডাউনলোডের চেয়ে ফিজিক্যাল সংগীতের বাজার ছিল সন্তোষজনক। ডিজিটাল ডাউনলোড ২০২২ সালে ২০ শতাংশ কমে ৮৯ কোটি ৫০ লাখে দাঁড়িয়েছে। ২০১২ সাল ছিল ডিজিটাল ডাউনলোডের শীর্ষ সময়। সাবস্ক্রিপশন ও বিজ্ঞাপননির্ভর সার্ভিস, ডিজিটাল রেডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অ্যাপ থেকে আসা আয়ই মূলত স্ট্রিমিং আয় হিসেবে গণ্য করা হয়। ৭ শতাংশ বেড়ে এ আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩০ কোটি ডলারে। আরআরএএর নির্বাহী প্রধান মিচ গ্লেজিয়ার বলেন, ‘গত বছর ভিনাইল রেকর্ড বিক্রির ব্যারোমিটারই প্রমাণ করে, আধুনিক সংগীতের বাজারে ভিনাইল তার জায়গা শক্ত করে ফেলেছে।’










