আন্তর্জাতিক বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করায় জ্বালানি তেলের চাহিদা কমার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এ কারণেই মূলত জ্বালানিটির সাপ্তাহিক দাম কমেছে।
তথ্য বলছে, আইসিই ফিউচারস ইউরোপে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম একদিনের ব্যবধানে ৯০ সেন্ট বেড়েছে। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমেছে ১১ শতাংশ। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৯৪ ডলার ৯২ সেন্টে।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম একদিনের ব্যবধানে ৪৭ সেন্ট বেড়েছে। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম ৮ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮৯ ডলার ১ সেন্টে।
মার্কিন শ্রম বিভাগ জানায়, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে কর্মসংস্থান। এর মধ্যে অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান ৫ লাখ ২৮ হাজার বেড়েছে, যা ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকরা জানান, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি শক্তিশালী অর্থনীতিরই প্রতিচ্ছবি। কর্মসংস্থান বাড়ার খবরে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একদিনের ব্যবধানে বেড়েছে।
তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মুদ্রা সংকোচন নীতি গ্রহণ করায় অর্থনীতির চাকা গতি হারাচ্ছে। মন্দার আশঙ্কায় চাহিদা কমার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণেই সাপ্তাহিক দাম কমেছে।
এদিকে সাপ্তাহিক দাম কমলে বাজারে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে উদ্বেগ কাটছে। সম্প্রতি এক বৈঠকে রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস সেপ্টেম্বরে দৈনিক এক লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৮২ সালের পর জোটটি এত কম মাত্রায় আর কখনো উত্তোলন বাড়ায়নি। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন অঞ্চলে শীত মৌসুম যত কাছাকাছি আসছে ততই উদ্বেগ তীব্র হচ্ছে। কারণ এ অঞ্চলের দেশগুলোয় শীত মৌসুমে স্বাভাবিকভাবেই জ্বালানির চাহিদা ব্যাপক আকার ধারণ করবে। কিন্তু ব্লকটি সর্বোচ্চ সরবরাহকারী রাশিয়া থেকে এরই মধ্যে জ্বালানি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে বিকল্প বাজার থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেগ পেতে হবে ইউরোপকে।
চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রত্যাশার চেয়ে কমার আশঙ্কা করছে ওপেক প্লাস। এক পূর্বাভাসে উদ্বৃত্তের পরিমাণ দৈনিক দুই লাখ ব্যারেল করে কমানো হয়েছে। মোট উদ্বৃত্ত দাঁড়াবে দৈনিক আট লাখ ব্যারেল।










