মালয়েশিয়ার জিডিপি চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও রফতানি সংকুচিত থাকার পরও দেশটির অর্থনীতি শক্তিশালী রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।

ব্যাংক মুয়ামালাত মালয়েশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ আফজানিজাম রাশিদ দাবি করেন, তৃতীয় প্রান্তিকে মালয়েশিয়ার প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। এটা প্রমাণ করে বাইরের দেশগুলোয় চাহিদা কম থাকলেও অভ্যন্তরে চাহিদা শক্তিশালী। তিনি বলেন, ‘‌অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হতে পারে বলেই আমি বিশ্বাস করি।’

আফজানিজামের দাবি অনুসারে, তৃতীয় প্রান্তিকে নিট রফতানি কমেছে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। ভোক্তারা সতর্ক ছিল প্রান্তিকজুড়ে। তার পরও আগামী প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটবে অর্থনীতিতে।

মালয়েশিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক রিসার্চের (এমআইইআর) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শংকরান নামবিয়ার বলেন, ‘‌বর্তমান পরিস্থিতিতে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধিই আশাজাগানিয়া। রফতানি সূচক হয়তো শক্তিশালী নয়। কিন্তু আমরা অভ্যন্তরীণভাবে ভালো করেছি। দ্বিতীয় প্রান্তিকের চেয়ে বেড়েছে অর্থনৈতিক কার্যক্রম।’

বছরের শেষ দিকে কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ হবে। প্রবৃদ্ধির পেছনে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলো ক্রমে অপসৃত হতে থাকবে।

শংকরান নামবিয়ার বলেন, ‘‌আমরা খুব সহজভাবে ২০২৩ সালের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে উন্নীত করতে পারব। কমপক্ষে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং তার বেশি থাকবে তো অবশ্যই।’

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে অর্থনীতির এ গতিকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে মনে করছেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা। কারণ বিশ্বজুড়ে প্রতিবন্ধকতা চলা অবস্থায় প্রবৃদ্ধি অর্জন করাটাই ইতিবাচক ঘটনা। এমন সময়ে মালয়েশিয়া যথেষ্ট ভালো করছে। ২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে এ গতি অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। 

মালয়েশিয়া ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অর্থনীতিবিদ জিওফ্রে উইলিয়ামস বলেন, ‘‌জিডিপি বৃদ্ধির প্রধান কারণ অভ্যন্তরীণ চাহিদা। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ডিসেম্বরে সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও তার প্রভাব মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে থাকবে খুব কম।’

উইলিয়াম মনে করেন চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার থাকবে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। আর চলতি বছরে ৪-৫ শতাংশের মধ্যে।