শ্রমিক সংকটে পড়েছে রাশিয়া। জনসংখ্যাগত ব্যবধান ও কভিড-১৯ মহামারী-সংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতির কারণে এ সংকট দেখা দিয়েছে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধরত দেশটিতে। রুশ দৈনিক নেজাভিসিমায়া গেজেটা সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। খবর আরটি।
ইয়াকভ অ্যান্ড পার্টনার্স কনসালট্যান্সি ফার্ম (পূর্ব মাককিনসি) থেকে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ রাশিয়ান বিশ্বাস করেন ক্রমাগত প্রশিক্ষণ, কাজের বহুমুখিতা এবং বাড়তি চাহিদা ২০৩০ সাল পর্যন্ত রুশ শ্রমবাজারের প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।
অ্যাভিটো জব রিক্রুটিং এজেন্সির তথ্যানুসারে, গত গ্রীষ্মে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কর্মীদের চাহিদা ১৬০ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির শীর্ষ তিন খাত কর্মী ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও প্রশাসনে বেশি চাহিদা দেখা দিয়েছে। আর বেতনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উল্লম্ফন ঘটেছে শিক্ষা, শিল্পকলা ও গার্হস্থ্য কর্মীদের বিভাগে।
গবেষণায় দেখানো হয়েছে, গত এক দশকে প্রতি বছর আগের বছরের তুলনায় এক লাখ কম তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কভিড-১৯ মহামারীর কারণে প্রায় ১০ লাখ এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে আরো ২০ লাখ লোক হারিয়েছে রুশ শ্রমবাজার। এদের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক সেনারাও রয়েছেন।
সম্প্রতি এক সভায় রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্টিন উন্নত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘অনেক কোম্পানির এখন দক্ষ কর্মী প্রয়োজন। সুতরাং পেশাদার পুনঃপ্রশিক্ষণের জন্য একটি সুবিধাজনক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যাতে নাগরিকরা অতিরিক্ত দক্ষতা অর্জন করতে পারে এবং কাজের সুযোগ পায়।’
দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সবচেয়ে বড় শ্রমঘাটতি দেখা দিয়েছে শিল্প খাতে। ঘাটতির মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রতি একজন দক্ষ কর্মীর সামনে অন্তত ১৩টি পদ খালি।
মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ, স্বাস্থ্য ও সামাজিক যত্ন, বিজ্ঞান ও গবেষণা এবং আইটির মতো খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মীর চাহিদা দেখা দেবে।










