মালয়েশিয়া ২০২৪ সালে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এটি অর্জনের পথে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক নানা বিষয় এক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে। 

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহের আলোকে প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের এমন প্রত্যাশাকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী বলে মনে করেন মালয় গবেষণা সংস্থা বাইত আল আমানাহর অর্থনীতিবিদ বেনেডিক্ট বীরসেনা। তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া একটি মুক্ত বাণিজ্য অর্থনীতির দেশ। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাহ্যিক অর্থনৈতিক পরিবেশ ও ভূরাজনৈতিক ধাক্কার ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। অপ্রত্যাশিত পরিবেশে শক্তিশালী প্রক্ষেপণ করা বেশ কঠিন।’ 

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম অবশ্য ২০২৪ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪-৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে আশাবাদী। আর বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস বলছে, আগামী বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। 

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক কর, নিরীক্ষা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটারহাউজকুপারস (পিডব্লিউসি)। মালয়েশিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির অর্থনীতি ও নীতিবিষয়ক পরিচালক ইয়ে মিং হাওয়ার মতে, ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক ও বৈশ্বিক বাণিজ্যিক পুনরুদ্ধারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

চলতি বছর জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে মালয়েশিয়ার রফতানি ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। আমদানি কমেছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। সম্প্রতি ঘোষিত ২০২৪ সালের বাজেটে অবশ্য কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন এ বাজেটে রাজস্ব ও কর থেকে আয় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। পরিষেবা খাতের কর ৮ শতাংশ বাড়িয়ে খুব বেশি রাজস্ব আসবে না। বিক্রয় ও পরিষেবা খাতে কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের ওপর বোঝা এবং ব্যবসায়ীদের ব্যয় বাড়িয়ে তুলবে। সামগ্রিকভাবে ২০২৪ সালে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে।

বিক্রয় ও পরিষেবা কর (এসএসটি) চলতি বছর ৩ হাজার ৪২০ কোটি রিংগিত অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার। যা মোট রাজস্বের ১১ দশমিক ৩ শতাংশের সমান।

মালয়েশিয়ার ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক রিসার্চের সিনিয়র ফেলো শঙ্করান নাম্বিয়ার বলেন, কর রাজস্ব বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। স্পষ্টতই তিনি যে কোনো মূল্যে জিএসটি এড়াতে চেয়েছিলেন। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সুবিধার একটা ভূমিকা থাকতে পারে। এসএসটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে তিনি সর্বোত্তম বিকল্প বলেও উল্লেখ করেন। কারণ এটি খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।