বায়োডিজেল উৎপাদনে পাম অয়েল ব্যবহার কমিয়ে দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই ইন্দোনেশিয়ার। সম্প্রতি এমনটি জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী আরলাঙ্গা হারতার্তো।
বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া বায়োডিজেল উৎপাদনে ৩০ শতাংশ পাম অয়েল ব্যবহার করছে। উদ্দেশ্য স্থানীয় বাজারে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, পাম অয়েল ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা জ্বালানি তেলে আমদানিনির্ভরতা কমাচ্ছি। আমরা যদি বর্তমানে পাম অয়েলের দামের সঙ্গে জ্বালানি তেলের দামের তুলনা করি, তবে আমাদের জ্বালানি খাতে আরো অনেক বেশি ভর্তুকি দিতে হবে। তাই বায়োডিজেল উৎপাদনে বেশি পাম অয়েল ব্যবহারের একমাত্র উদ্দেশ্য জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া জ্বালানি সুরক্ষাকে সবার আগে প্রাধান্য দিচ্ছে। এতে বায়োডিজেল উৎপাদনে পাম অয়েলের ব্যবহার কমানোর কোনো সুযোগ নেই। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে এসব কথা বলেন আরলাঙ্গা হারতার্তো।
তিনি জানান, বৈশ্বিক পাম অয়েল সরবরাহের ৬০ শতাংশই আসে ইন্দোনেশিয়া থেকে। দেশটি জ্বালানি তেল আমদানিনির্ভরতা কমাতে বায়োডিজেল উৎপাদনে ৩০ শতাংশ পাম অয়েল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হারতার্তো বলেন, আপনি যদি জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হন, তবে আপনি বর্তমানে বিপর্যয়ের মধ্যে আছেন। কারণ বর্তমানে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১১০ ডলারের দিকে এগোচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এপ্রিলের শেষ দিকে স্থানীয় বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পাম অয়েল রফতানি বন্ধ ঘোষণা করেছিল ইন্দোনেশিয়া সরকার। ফলে ভোজ্যতেলের বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করে। তবে গত সোমবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর পাম অয়েলের দাম কমতে শুরু করেছে।
এদিকে স্থানীয় বাজারে পাম অয়েল বিক্রির ক্ষেত্রে আবারো শর্ত জুড়ে দিতে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। রফতানি নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার পরদিনই এ ঘোষণা এসেছে। এ শর্তের অধীনে স্থানীয় উৎপাদকদের রফতানির জন্য নির্ধারিত পাম অয়েল থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সরকারকে সরবরাহ করতে হবে। তবে কতটুকু সরবরাহ করতে হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, সরকার আবারো ডমিস্টিক মার্কেট অবলিগেশন (ডিএমও) আরোপ করবে। এর মাধ্যমে দেশের বাজারে অন্তত এক কোটি টন পাম অয়েল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
ডিএমওর অধীনে প্রত্যেক পাম অয়েল উৎপাদককে রফতানির জন্য নির্ধারিত পাম অয়েল থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বাধ্যতামূলক বিক্রি করতে হয়। কী পরিমাণ তেল সরকারকে সরবরাহ করতে হবে তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে।
জানুয়ারিতে কোম্পানিগুলোর ওপর ২০ শতাংশ পাম অয়েল সরবরাহের সীমা বেঁধে দেয়া হয়। মার্চে তা বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হয়।










