ইউরোজোনের অর্থ সরবরাহ ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো অর্থ সরবরাহ সংকুচিত হয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের ঋণ ও আমানত কমে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী দিনগুলোয় পরিস্থিতি আরো নেতিবাচক দিকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) মুদ্রানীতির প্রভাব বোঝার প্রধান মাপকাঠি অর্থ সরবরাহ। ঋণ লেনদেন ও স্বল্পমেয়াদি আমানত সংগ্রহ কমে গেছে। ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিতে পারে। আসতে পারে মূল্যস্ফীতির চাপ। ইসিবি সর্বশেষ সুদহার বাড়িয়েছিল ২০২২ সালের জুলাইয়ের গভর্নিং কাউন্সিল সভায়। সর্বশেষ তথ্য ও প্রভাব মূল্যায়ন করে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরবর্তী সভায় সুদহার বাড়ানো স্থগিত করা হবে কিনা, সে-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
কাউন্সিলের কেউ কেউ বলছেন, ‘মূল্যস্ফীতি এরই মধ্যে কমতে শুরু করেছে। সুদহার আরো বাড়ানো হলে অপ্রয়োজনীয় ও কঠিন মন্দার ঝুঁকি দেখা দেবে।’ তবে অন্যদের যুক্তি, জুলাইয়ের মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ, যা ইসিবির ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিদ্ধান্তটি একটি ‘কয়েন টসের’ মতো, যা নির্ভর করতে পারে আগস্টে মূল্যস্ফীতি কতটা কমেছে তার ওপর। আগামী বৃহস্পতিবার চলতি মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
ইউরোজোন সিস্টেমে সামগ্রিক অর্থের ইসিবির পরিমাপ করা হয় এমথ্রি পদ্ধতিতে। এমথ্রি পদ্ধতিতে আমানত, ঋণ, নগদ প্রবাহ ও বিভিন্ন আর্থিক উপকরণ অন্তর্ভুক্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এমথ্রি সূচক চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে, যা জুনের দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে কম। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, গত বছরের তথ্যমতে, ইসিবির বেঞ্চমার্ক আমানতের হার অভূতপূর্ব বেড়েছে। মাইনাস দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
পিকটেট ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের সামষ্টিক অর্থনৈতিক গবেষণার প্রধান ফ্রেডেরিক ডুক্রোজেট সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম এক্সে লিখেছেন, ‘ব্যাংকের ব্যালেন্স শিটের সম্পদের দিক থেকে করপোরেটদের জন্য এবং বিশেষ করে গৃহস্থালির ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ কমে যাওয়ায় বিষয়গুলো খারাপ দেখাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আর্থিক নীতিতে এটা কোনো সমস্যা নয়, একটি বৈশিষ্ট্য মাত্র। এর অর্থ ছিল ইসিবি শিগগিরই সুদহার বাড়ানো বন্ধ করতে করবে।’
১৩ বছরের মধ্যে ইউরোজোনের অর্থ সরবরাহে প্রথম পতনের প্রধান কারণ হলো জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রদানের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসা, যা ২০১৬ সালের পর সবচেয়ে মন্থর প্রবৃদ্ধি। সরকারকে ঋণ দেয়ার পরিমাণও ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে, যা ২০০৭ সালের পর সবচেয়ে বড় পতন। অন্যদিকে, রাতারাতি ব্যবসা ও গৃহস্থালির আমানত থেকে রেকর্ড হারে অর্থ তুলে নেয়া হয়েছে, এ খাতের আমানত চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১০ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।










