বিশ্বব্যাংক থেকে ১২০ কোটি ডলার ঋণসহায়তা পাচ্ছে ইউক্রেন। জাপান সরকার এ ঋণের গ্যারান্টার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর আরটি।

ঋণের এ অর্থ ইউক্রেনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ২৯টি সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিশীল ও দক্ষতার সঙ্গে তাদের সামাজিক সুরক্ষা দেবে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, প্রকল্পটি ২০২৪ সালের মধ্যে ইউক্রেনের অর্থায়নের চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্যাকেজের একটি অংশ। এ ঘোষণাসহ বিশ্বব্যাংক এখন পর্যন্ত ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি আর্থিক সুবিধা দিয়েছে।

ঋণদাতাদের মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, জার্মানি, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, বেলজিয়াম ও কোরিয়া প্রজাতন্ত্র।

বিশ্বব্যাংকের দেয়া ঋণের অর্থ কিয়েভের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। নভেম্বরের শুরুর দিকে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শমিহাল জানান, বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে তারা ১১০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। এছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন পুনর্গঠনে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক থেকে ১৭৭ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা আশা করে কিয়েভ। প্রত্যাশা অনুসারে, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড যথাক্রমে ১৯০ মিলিয়ন ও ৭০ মিলিয়ন বরাদ্দ করবে বলেও আশ্বাস পেয়েছে তারা।

গত মাসে একটি বার্তা সংস্থা জানায়, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পেয়েছে ইউক্রেন। সহায়তার পরিমাণ এখনো বাড়ছেই, যা ব্লকটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণের রেকর্ড। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তার মধ্যে রয়েছে গোলাবারুদ, ট্যাঙ্ক ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

যুদ্ধের কারণে আর্থিক চাপ কমাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নভেম্বরের শুরুর দিকে জরুরি আর্থিক সহায়তার জন্য পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে সহায়তার প্রয়োজন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। জেলেনস্কি ওই সময় বলেন, ‘‌আপনারা যদি আর্থিকভাবে সহায়তা করতে না পারেন, তাহলে দয়া করে আমাদের ঋণ দিন। আমরা আপনাদের অর্থ ফেরত দেব।’

বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২২ সালে ২৯ দশমিক ১ শতাংশ সংকোচনের পর চলতি বছর ইউক্রেনের অর্থনীতি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তার জন্য বারবার পশ্চিমা মিত্রদের আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এমন অবস্থায় কিছু মিত্র দেশ সহায়তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।