ভারতের ভোজ্যতেল শিল্প সংস্থা সলভেন্ট এক্সট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (এসইএ) মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল আমদানিতে বিরত থাকার জন্য তার সদস্যদের পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি একটি বিবৃতির মাধ্যমে সম্প্রতি এ আহ্বান জানিয়েছে। খবর ব্লুমবার্গ ও ইকোনমিক টাইমস।
পাম অয়েল মালয়েশিয়ার প্রধান রফতানি
কৃষিজ পণ্য। এদিকে পণ্যটির শীর্ষ আমদানিকারক দেশ ভারত। এ অবস্থায় ভারতের এমন
সিদ্ধান্তে দেশটির পাম অয়েল শিল্পে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন
খাতসংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য অনিশ্চয়তাকে কেন্দ্র করে
কুয়ালালামপুর এক্সচেঞ্জে ভবিষ্যৎ সরবরাহে চুক্তিতে পণ্যটির মূল্য কমে গেছে।
সর্বশেষ কার্যদিবসে কৃষিপণ্যটির দাম আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি টন
২ হাজার ২৬৮ রিঙ্গিত (স্থানীয় মুদ্রা)
বা ৭৩৮ সিঙ্গাপুর ডলারে লেনদেন হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত
মাসে মালয়েশিয়ান প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মাদ জাতিসংঘে দেয়া এক বক্তব্যে
ভারতকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, ভারত সরকার অন্যায্যভাবে কাশ্মীর
আক্রমণ করেছে এবং জোরপূর্বক তা দখল করেছে। এ বক্তব্যের পর পরই দুই দেশের মধ্যে
রাজনৈতিক দোলাচল শুরু হয়। ভারতের জনগণ এ বক্তব্যে ক্ষব্ধ হয়ে মালয়েশিয়া সফর বয়কটের
আহ্বান জানায়। এসব ঘটনার জেরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মালয়েশিয়া থেকে
উদ্ভিজ্জ তেল আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আনতে পারে এমন গুঞ্জন ওঠে। এ আশঙ্কায় দেশটির পাম
অয়েল ক্রেতারা মালয়েশিয়ার পরিবর্তে ইন্দোনেশিয়া দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। চলতি বছরের
নভেম্বর-ডিসেম্বর সরবরাহ চুক্তিতে ভারত থেকে পণ্যটির অধিকাংশ ক্রয়াদেশ পড়েছে
ইন্দোনেশিয়ায়।
এএসইর বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান
পরিস্থিতিতে নিজদের স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি জাতির সঙ্গে সংহতি প্রকাশে তারা এমন
সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপাতত মালয়েশিয়া থেকে সদস্যদের পাম অয়েল কেনা এড়িয়ে চলা উচিত
বলে মন্তব্য করা হয় এতে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারত একটি
চুক্তির আওতায় মালয়েশিয়ান পাম অয়েল ক্রয়ে বিশেষ শুল্ক ছাড় দেয়। এ কারণে দেশটি থেকে
পণ্যটির ক্রয় বাড়িয়ে দেন ভারতীয় ক্রেতারা। বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়া
থেকে ভারতের পাম অয়েল আমদানি দাঁড়িয়েছে ৩৯ লাখ টন, যার অর্থমূল্য প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন
ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটা দ্বিগুণের বেশি।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনার
পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, ভারত যদি মালয়েশিয়া থেকে কোনো পণ্য আমদানি সীমাবদ্ধ করে, তবে
তারা কূটনৈতিক সমাধান চাইবে।
এ পরিস্থিতিতে ভারতের বাজারে ভোজ্যতেল
ঘাটতি পূরণে এসইএ প্রধান মাহি ভি মেহতা বলেন,
ভারতের উদ্ভিজ্জ তেল আমদানিকারকদের উচিত
মালয়েশিয়ার পরিবর্তে ইন্দোনেশিয়া,
ইউক্রেন ও আর্জেন্টিনা থেকে পণ্যটির ক্রয়
বাড়ানো।
এটি এই অঞ্চলের বাণিজ্য প্রবাহে বাধা
সৃষ্টিকারী সর্বশেষ আঞ্চলিক কূটনৈতিক বিরোধ। চলতি বছরের প্রথম দিকে কোরিয়া
উপদ্বীপে জাপানের উপনিবেশ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে মতানৈক্যের জের ধরে
রফতানিতে বিধিনিষেধ জারি করা হয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশটির পর্যটন খাতে।
এদিকে চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব তো রয়েছেই।









