ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন আজ শুরু হয়ে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। সরকারি ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার বাদে প্রতিদিন বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে অধিবেশন শুরু হবে।

গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিটির সভাপতি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও কমিটির সদস্য ডা. মো. শফিকুর রহমান, কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ও কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ ও কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী ও কমিটির সদস্য মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও কমিটির সদস্য মো. নাহিদ ইসলাম।

বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনের কার্যক্রম নিষ্পন্নের জন্য সময় বরাদ্দ ও অধিবেশনের স্থায়িত্বকাল নিয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৮ নভেম্বর এ অধিবেশন শেষ হবে। তবে প্রয়োজনে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবস পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারকে দেয়া হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, এ অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য একটি সরকারি বিল পাওয়া গেছে। এছাড়া তৃতীয় অধিবেশনের পর এবং চতুর্থ অধিবেশনের আগে তিনটি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। এগুলো হলো পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬। অধ্যাদেশগুলো অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ১৭৪টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৩ হাজার ৫৭৭টি প্রশ্নসহ মোট ৩ হাজার ৭৫১টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া বিধি-৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ৯২টি নোটিস এবং বিধি-১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ২৮১টি নোটিস পাওয়া গেছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ চত্বরকে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণার প্রস্তাব করলে উপস্থিত সবাই তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী সংসদের সাউন্ড সিস্টেমের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সংসদ সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া জানান, আজ বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সাউন্ড সিস্টেম উদ্বোধন করা হবে।

জাতীয় সংসদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট উপকমিটির আহ্বায়ক ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে সাত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। অধিবেশন চলাকালে সংসদের বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ছয় মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা মেটানোর পর অবশিষ্ট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সংরক্ষণাগারের সুবিধা রেখেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশনা দেন।

এছাড়া ডেপুটি স্পিকার ই-পার্লামেন্ট কার্যক্রম এবং জাতীয় সংসদে শূন্য পদে জনবল নিয়োগের সর্বশেষ অগ্রগতি কমিটিকে অবহিত করেন।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া বৈঠকে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।