দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রতিবন্ধী বহুল দেশ বাংলাদেশ। বিভিন্ন ধারণা অনুযায়ী, এ সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের বাইরে রেখে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব নয়। দেশের টেকসই অর্থনীতি গঠনে তাদের মূলধারায় যুক্ত করতে হবে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

গতকাল রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত এক সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘এমপাওয়ারঅ্যাবিলিটি: পাওয়ারিং এভরি অ্যাবিলিটি ২০২৬’ শীর্ষক এ সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ডিসঅ্যাবিলিটি নেটওয়ার্ক (বিবিডিএন) ও ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। সম্মেলনে দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান নিজেদের অফিসে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের অঙ্গীকার প্রদান করে।

অনুষ্ঠানে বিবিডিএনের অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন কাসেম খান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট জাতীয় জরিপ ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আনলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অতিরিক্ত অন্তত ১ শতাংশ যোগ করা সম্ভব। ধারণা অনুযায়ী দেশে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষ বাস করেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল খাতে সম্পৃক্ত করা দরকার। ব্যাংক খাতের নির্ধারিত সিএসআর (করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা) তহবিলের মতো সুযোগগুলোকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অভাবনীয় অগ্রগতি আনা সম্ভব।’

সম্মেলনে বিবিডিএনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুর্তজা রাফি খানের সঞ্চালনায় একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ‘ফ্রম ডায়ালগ টু ইমপ্যাক্ট: অ্যাডভান্সিং ডিসঅ্যাবিলিটি-ইনক্লুসিভ এমপ্লয়মেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ আলোচনায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্রিটিশ হাইকমিশন, ব্র্যাক ও বাটার প্রতিনিধি ও প্রতিবন্ধী অধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। এ সময় তারা নীতিগত অঙ্গীকারকে বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগে রূপান্তর করার উপায় নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে উর্মি গ্রুপ ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তাদের মোট কর্মীর অন্তত ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিয়োগের অঙ্গীকার করেছে। বিবিডিএনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী স্নাতকদের অন্তত ২০টি ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে লা মেরিডিয়ান, ঢাকা। ব্র্যাক ব্যাংক প্রতি বছর অন্তত পাঁচজন যোগ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়ার অঙ্গীকার করেছে।

এছাড়া ওয়ালটন ও বার্জার পেইন্টস সমান কর্মসংস্থানের সুযোগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক নিয়োগ ও কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এমএম ইস্পাহানি লিমিটেড প্রবেশগম্যতা, পুনর্বাসন, সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিবিডিএনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সম্মেলনে আরো কথা বলেন আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, চীনভিত্তিক সাইনল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এন্দ্রে ওলসভিক এলভেস্তাদ, আইএলও গ্লোবাল বিজনেস অ্যান্ড ডিসঅ্যাবিলিটি নেটওয়ার্কের চীন চ্যাপ্টারের সমন্বয়ক ঝৌ হাইবিন, অ্যাসপায়ার টু ইনোভেটের (এটুআই) কনসালট্যান্ট ভাস্কর ভট্টাচার্য প্রমুখ।