সিলেট টেস্টে তাওহীদ হৃদয়ের বীরোচিত ডাবল সেঞ্চুরিটি কি তাহলে বিফলেই যেতে বসেছে? প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩০ রানের লিড নিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আলোকস্বল্পতায় গতকাল চতুর্থ দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৩০ মিনিট আগেই শেষ হয়ে যায়। এর আগ পর্যন্ত সফরকারীরা ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান তুলে নেয়। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাদের লিড এখন ৩১৫ রানের। কাভেম হজ ১৪০ ও আমির জাঙ্গু ২০ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

আজ পঞ্চম ও শেষ দিন ক্যারিবীয়রা আর ১০-১৫ ওভার ব্যাটিং করে ইনিংস ঘোষণা করলে বড় টার্গেটের সামনেই পড়তে হবে বাংলাদেশকে। তবে এখন পর্যন্ত যা লিড হয়েছে ক্যারিবীয়দের তাতেই টাইগারদের কাজটা কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ২১৫ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। আর কোনো ম্যাচেই দুশর বেশি টার্গেট তাড়া করে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড এরই মধ্যে তিনশ পেরিয়ে গেছে। তাই এ টেস্ট জিততে হলে রান তাড়ায় রেকর্ড গড়তে হবে নাজমুল হোসেন শান্তদের।

গতকাল পুরো দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন ব্যাটারকে আউট করতে পেরেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। সাজঘরে ফিরে গেছেন জসুয়া দ্য সিলভা (৩৬), ব্র্যান্ডন কিং (৬১) ও কেভিন উইকহ্যাম (৭৮)। তাইজুল ইসলাম দুটি ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি উইকেট নেন। ৭৯ ওভারের দিনে স্বাগতিক দলের বোলিং সাফল্য বলতে এটুকুই।

১১৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর তৃতীয় উইকেট জুটিতে ২২১ বলে ১৬৫ রান করেন কাভেম হজ ও কেভিন উইকহ্যাম। তাইজুলের বলে ফিরতি ক্যাচ দেয়ার আগে উইকহ্যাম করেন ১০৭ বলে ৭৮ রান। এরপর জাঙ্গুকে নিয়ে ৯২ বলে ৬১ রান যোগ করে বাংলাদেশকে হতাশ করেন হজ। ১৮৯ বলে ১৭ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ১৪০ রানে অপরাজিত রয়েছেন হজ। এটা তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। হজের সঙ্গে অপরাজিত থাকা জাঙ্গু ২০ রান করেন ৪৯ বলের মোকাবেলায়। প্রথম ইনিংসে ১৩৩ রানের ইনিংস খেলেছেন জাঙ্গু।

সিলেট টেস্টে একদিনও পুরো ৯০ ওভারের খেলা হয়নি। প্রথম দিন ৭০ ওভার, দ্বিতীয় দিন ৭৭ ওভার, তৃতীয় দিন ৭৬ ওভার ও চতুর্থ দিন ৭৯ ওভার খেলা হয়। অর্থাৎ চারদিনে ৫৮ ওভার কম খেলা হয়েছে।

ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজ বাঁচাতে এ টেস্ট জিততেই হবে বাংলাদেশকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৫৬ ও ৩৪৫/৩ (হজ ১৪০*, উইকহ্যাম ৭৮, কিং ৬১, জাঙ্গু ২০; তাইজুল ২/১১৮)। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩৮৬। —চতুর্থ দিনশেষে।