ইউরোপের দেশগুলো বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় প্রতিনিয়তই সংগ্রাম করছে। অঞ্চলটিতে জ্বালানি সংকট মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। কিন্তু এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোয় সরবরাহ এখনো সুরক্ষিতই রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। কারণ অঞ্চলটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ও তেলের পরিবর্তে কয়লাই বেশি ব্যবহার করছে। অঞ্চলটি কয়লাসমৃদ্ধ হওয়ায় চলমান সংকট এখানে খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারছে না। খবর সিএনবিসি।

চাহিদা বৃদ্ধির কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ প্রবাহ এশিয়ার পরিবর্তে ইউরোপের দিকে গতিপথ বদলেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে এশিয়ায় জ্বালানিটির প্রবেশাধিকারই শুধু কমেনি, বরং উচ্চমূল্যের কারণে অঞ্চলটি এলএনজি ক্রয়ের পরিমাণও কমাচ্ছে।

রাশিয়া সরবরাহ কমিয়ে দেয়া এবং ক্ষেত্র বিশেষে বন্ধ করে দেয়ার কারণে ইউরোপ গ্যাস সংকট মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। ফলে আসন্ন শীত মৌসুমে এ অঞ্চলের অনেক দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ন্যাশনাল গ্রিড সম্ভাব্য বিদ্যুৎ ঘাটতির সতর্কতা জারি করেছে।

এদিকে সম্প্রতি ইউরোপ রুশ গ্যাসের ওপর মূল্যসীমা বেঁধে দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। ব্লকটি ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে বিকল্প পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছে। রাশিয়া এর আগে জানিয়েছিল, যদি ইউরোপ রুশ গ্যাসের ওপর মূল্যসীমা বেঁধে দেয়, তবে দেশটি ইউরোপে পুরোপুরিভাবে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেবে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের এনার্জি স্ট্র্যাটেজিস্ট অতুল আরিয়াল বলেন, ইউরোপে সংকট এবং ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসসহ জ্বালানি পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। কিন্তু এশিয়ার বাজারে এর প্রভাব খুব একটা পড়েনি বললেই চলে। এশিয়ার দেশগুলো গ্যাসের পরিবর্তে বেশি পরিমাণে কয়লা ব্যবহার করছে। কারণ এ অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ কয়লা উত্তোলন হয়। ফলে এ অঞ্চলে জ্বালানির তুলনামূলক সাশ্রয়ীও।

উড ম্যাকেঞ্জির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের প্রধান অ্যালেক্স হোয়াইটোর্থ বলেন, ইউরোপ জ্বালানি পণ্য তৈরিতে সবচেয়ে বেশি গ্যাসই ব্যবহার করে। কিন্তু এশিয়ার ক্ষেত্রে গ্যাস ততটা প্রাসঙ্গিক নয়। অঞ্চলটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে মাত্র ১১ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার করে। এর মধ্যে আমদানীকৃত এলএনজির ভূমিকাও কম। কারণ বেশির ভাগ গ্যাসের চাহিদাই পূরণ হয় স্থানীয় উৎপাদন থেকে। তিনি আরো বলেন, এশিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বড় হিস্যা কয়লার। এ হিস্যা ৬০ শতাংশেরও বেশি।

বিশ্লেষকরা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পুুরোপুরিভাবে স্থানান্তর হতে আরো অনেক সময় লাগবে। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা, সেটি নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে এশিয়ার দেশগুলো জ্বীবাশ্ম জ্বালানিতে নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে অপরিচ্ছন্ন জ্বালানি কয়লা।

অন্যদিকে উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়ার দেশগুলোয় এলএনজি আমদানি অব্যাহত কমছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির সর্বশেষ গ্যাস রিপোর্টে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এশিয়ার স্বল্পমেয়াদি ও স্পট এলএনজি আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ শতাংশ কমেছে। সব মিলিয়ে আমদানি কমেছে ৭ শতাংশ।

বর্তমানে চীন বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি আমদানিকারক দেশ। আইইএর দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটির আমদানি ৫৯ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে জাপানের আমদানি ১৭, পাকিস্তানের ৭৩ ও ভারতের ২২ শতাংশ কমেছে।