মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগামী বছর ৩ শতাংশে পৌঁছবে। সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর খালিজ টাইমস।
ইআইইউর মিডল ইস্ট আউটলুক ২০২৪ অনুসারে, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলো ২০২৪ সালে ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে ঘুরে দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি খাত প্রবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইআইইউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওপেক প্লাসের তেল উৎপাদনের কোটা শিথিল করা, প্রধান এশিয়ান বাজারে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বৈচিত্র্যকরণ কৌশল অঞ্চলটির প্রবৃদ্ধিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।
ইআইইউর তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি তীব্রতর হচ্ছে। হামাস-ইসরায়েল সংঘাত শিগগির মিটে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস-ইসরায়েল সংঘাত ২০২৪ সালজুড়ে চলতে পারে। এতে ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি বৃহত্তর আরব বিশ্বের অসন্তোষ বাড়বে। আরব-ইসরায়েল সম্পর্কের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবে ইরান। একই সঙ্গে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবে এবং চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করবে।
নতুন ইউরেশীয় পরিবহন করিডোরগুলোর জন্য কেন্দ্রবিন্দু হবে মধ্যপ্রাচ্য। যা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর জন্য বিকল্প বাণিজ্য রুট এবং ভূকৌশলগত জোটে রূপ নিতে পারে।
ইআইইউ পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৪ সালে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি বাড়বে। ২০২৩ সালে পূর্বাভাস ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ।
সৌদি আরব ২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে একতরফা তেল উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং দেশটি তেলবহির্ভূত খাতে বিনিয়োগ বাড়ায়।
সৌদি আরব তাদের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে ভ্রমণ ও পর্যটন, আতিথেয়তা ও বিনোদন, হালকা ও ভারী উৎপাদন, ধাতু ও খনিজ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, পরিবহন ও লজিস্টিকসের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করবে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমানসহ অন্যান্য জিসিসিভুক্ত দেশও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বহুমুখীকরণ কৌশল থেকে উপকৃত হবে।










