সম্প্রতি অভ্যন্তরীন মজুদ সংকটের কারণে কয়লা রফতানি নিষিদ্ধ করেছে জ্বালানি পণ্যটির শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া। তবে দেশটির এমন সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাজারে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে পণ্যটির শীর্ষ আমদানিকারক ও ভোক্তা চীন। চীনা কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশটিতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ পর্যন্ত ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। খবর রয়টার্স।
চলতি মাসের হিসাব অনুযায়ী উপকূলবর্তী চীনা ইউটিলিটিগুলোয় কয়লার মজুদ রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টন, যা ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বেশি। চায়না কয়েল ট্রান্সপোর্টেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া তথ্যে এমনটা দেখা যায়।
এদিকে চীনের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোয় বর্তমানে দৈনিক কয়লার ব্যবহার গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম রয়েছে। গত বছর দৈনিক ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ২২-২৩ লাখ টন পর্যন্ত। সামনের সপ্তাহে উৎপাদন কেন্দ্রগুলোয় কয়লার ব্যবহার আরো কমবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সপ্তাহব্যাপী চীনা নববর্ষ উপলক্ষে কারখানা বন্ধ থাকায় পণ্যটির ব্যবহার কমবে। পাশাপাশি শীতকালীন অলিম্পিক উপলক্ষে পরিষ্কার বায়ু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ধোঁয়া কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।
জিলিনভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, সামনের দিনগুলোয় অতিরিক্ত ঠাণ্ডা আবহাওয়া পরিবাহিত না হলে কয়লার ব্যবহার ও চাহিদা বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। দেশটিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় কয়লার সরবরাহ বৃহৎ আকারে নির্ভর করে স্থানীয় খনিগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ওপর। ফলে স্পট মার্কেট থেকে পণ্যটি ক্রয় করার কোনো প্রয়োজন এ মুহূর্তে নেই বলে মনে করছেন এ চীনা ব্যবসায়ী।
ইন্দোনেশিয়ার কয়লা রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর জ্বালানি পণ্যটির বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হলেও তার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি চীনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে। মূলত অভ্যন্তরীণ উত্তোলন ও মজুদের পরিমাণ শক্তিশালী অবস্থায় থাকার কারণে এমনটা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তবে ইন্দোনেশিয়ার এমন ঘোষণার পর প্রথম লেনদেনে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে কয়লার দাম ৬ শতাংশ বাড়ে। তবে স্থানীয় উত্তোলন ও মজুদের পরিমাণ প্রকাশপূর্বক চীনা ব্যবসায়ীদের বিবৃতির পর তা পুনরায় কমতে শুরু করে। গত বছরের শেষ সময়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করলে কয়লার উত্তোলন ও মজুদ বাড়াতে শুরু করে চীন। ফলে বর্তমানে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তেমন প্রভাব ফেলছে না দেশটিতে। গত বছরের শেষ দিকে চীনে অভ্যন্তরীণ কয়লা নীতি পরিবর্তনের ফলে চাহিদার বিপরীতে জোগান বাড়ার পাশাপাশি চলতি বছরে দেশটির আমদানি প্রয়োজনীয়তাও কমেছে।










