জাপান থেকে সব ধরনের সি ফুড আমাদনিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে রাশিয়া। ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় পানি সমুদ্রে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দেশটি। এর আগে গত আগস্টে একই কারণে জাপানি সি ফুডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। খবর আরটি।
রাশিয়ার খাদ্য তদারকি সংস্থা রোসেলখোজনাদজর বিবৃতিতে জানায়, জলজ পণ্যের নিরাপত্তায় ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের বিধিনিষেধ মানার বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। গত সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সামুদ্রিক পণ্যে তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি বিবেচনা করেই জাপানি সামুদ্রিক পণ্যে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে টোকিওর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
জাপানের সামুদ্রিক মাছ ও খাবার আমদানিকারক দেশের মধ্যে শীর্ষে চীন। গত আগস্টে তারাও দেশটি থেকে সব ধরনের সামুদ্রিক খাবার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও ফুকুশিমা প্লান্টের আশপাশের ১০টি অঞ্চল থেকে সামুদ্রিক খাবার আমাদানির নিষেধাজ্ঞা তারা আগেই দিয়েছিল। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়াও ফুকুশিমাসহ জাপানের আটটি অঞ্চল থেকে সামুদ্রিক মাছ ও খাবার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পরিসর বাড়িয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল দেশটি।
ফুকুশিমা প্লান্টের প্রায় ১৩ লাখ টন বর্জ্য প্রশান্ত মহাসাগরের পানিতে ফেলেছে টোকিও, যা ৫০০টি অলিম্পিক সুইমিং পুল ভর্তির সমান। ২০১১ সালে মার্চে ৯ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামির পর বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে পড়ে ফুকুশিমা প্লান্ট।
১৯৮৬ সালে চেরনোবিলের পর বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ পারমাণবিক দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয় ফুকুশিমা জলাবদ্ধতাকে। দুর্ঘটনার প্রায় ১২ বছর পর গত ২৪ আগস্ট প্রশান্ত মহাসাগরে বর্জ্য নিঃসরণ শুরু করে টোকিও প্রশাসন। এরপর থেকেই খাদ্য নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দেশটি থেকে সামুদ্রিক মাছ ও খাবার আমদানি বন্ধ করতে থাকে আমদানিকারক দেশগুলো।










