আগামী বছর থেকে বিশ্বব্যাপী পাম অয়েল
উৎপাদনে শ্লথগতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শীর্ষ উৎপাদক দেশ ইন্দোনেশিয়া ও
মালয়েশিয়া থেকে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমবে। যে কারণে সরবরাহ
সংকটে আগামী বছর থেকে বাজার চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর
রয়টার্স।
বৈশ্বিক পাম অয়েলের প্রায় ৮৫ শতাংশ
সরবরাহ করে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। কিন্তু আগামী বছর থেকে দেশ দুটির উৎপাদন
প্রবৃদ্ধিতে শ্লতগতির ভাবধারা বজায় থাকবে। এছাড়া ২০২০ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়া পরিবহন
খাতে জ্বালানি হিসেবে পাম অয়েল থেকে উৎপাদিত বায়োডিজেলের বাধ্যতামূলক ব্যবহার ২০
শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করবে। একইভাবে মালয়েশিয়াও এ সময় থেকে ২০ শতাংশ
বায়োডিজেল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করবে। ফলে শীর্ষ উৎপাদক দেশ দুটিতে বায়োডিজেল খাতে
পাম অয়েলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে, যা বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি
করবে এবং বাজার চাঙ্গা হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হয়ে উঠবে।
এগ্রিবিজনেসবিষয়ক অন্যতম শীর্ষ
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এলএমসি ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান জেমস ফ্রেই মনে করেন, চলতি
বছর থেকে শীর্ষ উৎপাদক ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার পাম অয়েল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য
পরিমাণে কমতে পারে। তিনি জানান,
খরচ বাচাতে কৃষকরা পাম বাগানে সারের ব্যবহার
কমিয়ে দিচ্ছেন। পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে চলতি বছর পামের উৎপাদন কমতির দিকে
থাকবে এবং আসন্ন বছরগুলোতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত পাম
অয়েলবিষয়ক এক কনফারেন্সে জেমস ফ্রেই জানান,
আগামী বছর মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পাম অয়েলের
উৎপাদন প্রবৃদ্ধি হবে খুবই সামান্য। এছাড়া বায়োডিজেল খাতে চাহিদা বৃদ্ধির ফলে
বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটও দেখা দেবে। তার এমন বক্তব্যের পর থেকে মালয়েশিয়ান এক্সচেঞ্জে
পাম অয়েলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়া শুরু করেছে।
অন্যদিকে ভোজ্যতেলের শীর্ষ ভোক্তা
দেশে ভারতের বাজারেও পাম অয়েলের দামে এরই মধ্যে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দেশটিতে
ভোজ্যতেলটির দাম এরই মধ্যে এক-চতুর্থাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সলভেন্ট এক্সট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব
ইন্ডিয়ার নির্বাহী পরিচালক বিভি মেহতা।
এছাড়া আগামী তিন মাসও ভারতের বাজারে
পাম অয়েলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। মুম্বাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সানভিন গ্রুপের
প্রধান নির্বাহী কর্মকতা (সিইও) জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে ভারতের বাজারে পাম অয়েলের দাম টনপ্রতি ৫০ ডলার
বাড়তে পারে, যা দেশটির বাজারে পাম অয়েলের দাম ৮ শতাংশ বাড়িয়ে দেবে।
একই কথা জানিয়েছেন ভারতের
ভোগ্যপণ্যবিষয়ক কোম্পানি গোদরেজ ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক দোরাব মিস্ত্রি। তার মতে, আগামী
মার্চ থেকে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম বেড়ে টনপ্রতি ২ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত বা ৬৪৮
ডলার ৫৭ সেন্টে দাঁড়াতে পারে। যেখানে আগের প্রাক্কলনে ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিতের কথা
বলা হয়েছিল।
অন্যদিকে আগামী বছর থেকে ইউরোপিয়ান
অপরিশোধিত পাম অয়েলের (সিপিও) দাম টনপ্রতি ৭০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন জেমস ফ্রেই।
উল্লেখ্য, আগামী
জানুয়ারি থেকে বাধ্যতামূলক বায়োডিজেল ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ইন্দোনেশিয়ার এ খাতে
ব্যয় হবে ৩০-৪০ লাখ টন এবং মালয়েশিয়ার ব্যয় হবে ১০ লাখ টন পাম অয়েল, যা
ভোজ্যতেল হিসেবে বৈশ্বিক সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে। যার অন্যতম শিকার হতে
পারে ভারত। কারণ দেশটি প্রতি বছর এ দুই দেশ থেকে ৯০ লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করে, যা
দেশটির মোট ভোজ্যতেল আমদানির ৭০ শতাংশ।









