চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সংকুচিত হয়ে আসার আগে ব্রিটেনের অর্থনীতি স্থির হয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির শীর্ষ একটি ব্যবসায়িক দল। মূল্যস্ফীতি ও কর বৃদ্ধি পাওয়াকে এমনটা হওয়ার একটা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে দলটি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ইউক্রেনে রাশিয়া আগ্রাসন চালানোর কারণে ভোক্তা ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে উচ্চমূল্য শোধ করতে হবে। সেই সঙ্গে চীন থেকে সরবরাহও ক্রমাগত দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্স (বিসিসি)। তাদের ধারণা, পরবর্তী প্রবৃদ্ধি কমে দশমিক ৬ শতাংশ হবে।

ক্রমাগত বেড়ে পেট্রলের দাম এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। লিটারপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৮০ পাউন্ডে। কমার কোনো লক্ষণ নেই গ্যাসের দামও। বিসিসি বলছে, চলতি বছর শেষের আগে আগে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ হয়ে যাবে।

অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) আগের বিশ্লেষণের মাত্রার সঙ্গে নতুন এ পূর্বাভাস প্রায় কাছাকাছি। যদিও প্যারিস-ভিত্তিক থিংকট্যাংকটি বলেছে, যুক্তরাজ্যকে ২০২৩ সালে আরো পাহাড়সংকুল পথ পেরোতে হবে। ওইসিডির বিশেষজ্ঞরা বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধির হার চলতি বছরে কানাডার পর দ্বিতীয় দ্রুততম বর্ধমান অর্থনীতি থেকে ধীরে বর্ধমান অর্থনীতির পথে এগোবে বলে ধারণা করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পূর্বাভাস ভোক্তাদের ভীত ও আবাসন বাজারকে হতাশ করে তুলতে পারে। যেটা সাম্প্রতিক কয়েক মাসে আরো ধীর হয়ে উঠেছে।

এরই মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ কমেছে গ্রাহকদের আত্মবিশ্বাস, কারণ মূল্যস্ফীতি তীব্রহারে বেড়ে গিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেটা বছরের বাকি সময়ব্যাপীও অব্যাহত থাকবে। তাই গত মাসে অর্থমন্ত্রী রিশি সুনাকের ঘোষণা করা ১ হাজার ৫০০ কোটি পাউন্ডের কল্যাণ তহবিল এবং জ্বালানি ভর্তুকি সেখানে কোনো কমতি আনতে পারেনি।

স্টকব্রেকার এজে বেলের বিশ্লেষক ডান্নি হেওসন বলেন, প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনার ফলে যুক্তরাজ্যকে শিল্পোন্নত দেশগুলোর একদম নিচের দিকে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে লন্ডনের ওপরও কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে।

আবাসন বাজারও ধীরে ধীরে শীতল হচ্ছে। নির্মাণ খাতও ধীর হচ্ছে এবং গ্রাহকদের আত্মবিশ্বাস স্পষ্টভাবেই কমে আসছে। সরকার যেন আরো বেশি বেশি হস্তক্ষেপ করে সেজন্য ক্রমাগত চাপ রয়েছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের মূল্য দিতে হচ্ছে পুরো বিশ্বকেই। কিন্তু ওইসিডি বলছে সেখানে যুক্তরাজ্য আলাদা হয়ে যাচ্ছে। সেসব পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বছরের প্রবৃদ্ধি নিয়ে তেমন কোনো মারাত্মক পূর্বাভাস না দেয়াটাই ভালো সিদ্ধান্ত হবে।

বিসিসি বলছে, ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রচেষ্টা গত বছর থেকে একদম সমতল হয়ে গেছে। আর সেটার বিপরীতে ভুগতে দেখা যাবে আগামী বছরে। ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধির হার কমে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশে নেমে যাবে।

বিসিসির প্রতিবেদন অনুসারে, ব্যবসায় বিনিয়োগের পূর্বাভাস কমে আসার বিষয়টা সত্যিই ভাবনার বিষয়। এখনই কোনো পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জরুরি সময়। মূলধন অগ্রগতি ও অন্যান্য ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য নীতির বিষয়ে সরকারের সঙ্গেও আমাদের গঠনগত আলোচনা চলছে।

এমন নিম্নগামী প্রবণতা বলতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে বোঝায়। ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের কারণেও অনেক ছোট প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ সক্ষমতা হারাচ্ছে। জরিপের তথ্যে কভিড-১৯ মহামারীর শুরুর পর থেকে ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়ার মতো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।