চলতি বছরের শুরু থেকে ভারতে চা উৎপাদনে চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) দেশটিতে পানীয় পণ্যটির উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ৪ শতাংশের বেশি। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টি বোর্ডের পক্ষ থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। খবর কমোডিটি অনলাইন ও বিজনেস লাইন।
টি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ভারতের বাগানগুলো ৪৭ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার কেজি চা উৎপাদন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ভারতে শীর্ষ চা উৎপাদনকারী রাজ্য আসামে পানীয় পণ্যটির বাম্পার ফলন হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির সামগ্রিক চা উৎপাদনে।
ভারতের টি বোর্ডের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের জুনে ভারত ১৫ কোটি ৮ লাখ ৬০ হাজার কেজি চা উৎপাদন করেছে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় কিছুটা বেশি। ২০১৮ সালের জুনে দেশটির চা বাগানগুলোর মোট উৎপাদন ছিল ১৪ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জুনে দেশটিতে পানীয় পণ্যটির উৎপাদন বেড়েছে ১৭ লাখ ৩০ হাজার কেজি।
এদিকে চলতি বছরের মে মাসে ভারতজুড়ে ১৩ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে টি বোর্ড অব ইন্ডিয়া, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১০ শতাংশ বেশি। গত এপ্রিলে ৮ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। অর্থাৎ শুধু আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নয়, বরং চলতি বছরের এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে দেশটিতে পানীয় পণ্যটির উৎপাদন বেড়েছে ৫ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার কেজি।
চা উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। আর ভারতের শীর্ষ চা উৎপাদনকারী রাজ্য আসাম। চলতি বছর আসামের বাগানগুলোয় পানীয় পণ্যটির উৎপাদনে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। টি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে আসামের বাগানগুলোয় ৬ কোটি ৬৫ লাখ ২০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। মূলত আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ও মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় চলতি বছর আসামে পানীয় পণ্যটির উৎপাদন অন্যান্য বছরের তুলনায় বেড়েছে।
উল্লেখ্য, চা রফতানিকারক দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় ভারতের অবস্থান তৃতীয়। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর দেশটি থেকে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চা বিদেশে রফতানি হয়। ভারতের সিটিসি গ্রেডের চায়ের বড় ক্রেতা মিসর, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্য। আর সাধারণ চায়ের ক্রেতা দেশের মধ্যে ইরাক, ইরান ও রাশিয়া উল্লেখযোগ্য।










