করোনা মহামারী শুরুর আগেই বিশ্বে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১৬ কোটি ছাড়িয়েছিল। চলতি বছর শেষে আরো ৯০ লাখ শিশু এ তালিকায় যুক্ত হবে বলে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও)। গতকাল আন্তর্জাতিক শিশু শ্রমবিরোধী দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা জানায় জাতিসংঘভুক্ত সংস্থাটি।
আইএলও ইউনিসেফের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫-১৭ বছর বয়সী ১৬ কোটি শিশু শ্রমিকের অর্ধেকই বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে। আইএলওর শিশু শ্রমবিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বেঞ্জামিন স্মিথ বলেন, প্রায় ৭০ শতাংশ শিশু শ্রমিক কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত।
আইএলওর নীতিমালা অনুসারে, ৫-১১ বছরের কোনো শিশু দৈনিক ১ ঘণ্টা কাজ করলে ও ১২-১৪ বছরের শিশু সপ্তাহে ১৪ ঘণ্টা কাজ করলে তা শিশুশ্রমের মধ্যে ধরা হয়। এ শিশুশ্রম বন্ধ করতেই পালিত হচ্ছে শিশুশ্রমবিরোধী দিবস। ২০০২ সাল থেকে পালিত হচ্ছে দিনটি। দরিদ্রতার কারণেই অধিকাংশ শিশুকে কাজ করতে হচ্ছে। খাবার জোগাড় করতে গিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে না অনেকেই। সমাজের এ সমস্যা সমাধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বিভিন্ন সংস্থা। এ বিষয় নিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে শিশুশ্রমবিরোধী দিবস।
বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ভারতীয় নোবেলজয়ী ও শিশ অধিকারকর্মী কৈলাশ সত্যার্থী বলেন, শিশুশ্রমের ভয়াবহতা রুখতে বৈশ্বিক সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল গঠন করতে হবে। করোনা মহামারীর কারণে ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম মুক্ত বিশ্ব গড়তে নেয়া জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন ২০১৪ সালের এ নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী।
কৈলাস সত্যার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৬ কোটি শিশু শ্রমিক স্রেফ কোনো সংখ্যা নয়। এর মানে হচ্ছে ১৬ কোটি শিশু নিরাপদ ও মুক্ত শৈশব থেকে বঞ্চিত এবং স্কুলে ১৬ কোটি শূন্য আসন।
বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি সত্ত্বেও গত চার বছরে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানান বাচপান বাঁচাও আন্দোলনের (শৈশব বাঁচাও আন্দোলন) এ প্রতিষ্ঠাতা।
প্রতি বছর ১২ জুন দিনটি পালিত হয় শিশুশ্রমবিরোধী দিবস হিসেবে। ১৪ বছরের কম বয়সীদের দিয়ে কাজ না করিয়ে তাদের শিক্ষার সুযোগ করে দেয়ার লক্ষ্যেই পালিত হচ্ছে দিনটি। ২০০২ সাল থেকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে দিনটি। প্রতি বছর এ দিন পালিত হয় বিশ্ব শিশুশ্রমবিরোধী দিবস হিসেবে। প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন বিষয়বস্তু স্থির করা হয়। ২০১৯-এর থিম ছিল শিশুদের খেতের কাজে নয়, বরং স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কাজ করা উচিত। ২০২০ সালের থিম ছিল, কভিড ১৯ শিশুশ্রম থেকে শিশুদের রক্ষা করুন। এখন এর প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। ২০২১ সালের থিম ছিল করোনাভাইরাস পর্বে শিশুদের সুরক্ষা। এ বছরের থিম শিশুশ্রম বন্ধে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা।










