নিলাম মহলে ভিন্নভাবে আলোচনায় রয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক বিলাসপণ্য নির্মাতা হারমেসের আইকনিক বারকিন ব্যাগ। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বার্নস্টাইনের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্যতিক্রমী কয়েকটি রেকর্ড বিক্রি বাদ দিলে সামগ্রিকভাবে বারকিন ব্যাগের নিলামদর নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে ব্রিটিশ অভিনেত্রী জেন বারকিনের ব্যবহার করা একটি বারকিন ব্যাগ নিলামঘর সদ’বিজে বিক্রি হয় ২৯ লাখ ডলারে। এটি নিলামঘরের সর্বোচ্চ প্রাক্কলন ৪ লাখ ৪০ হাজার ডলারের অনেক বেশি। এর আগে জুলাইয়ে তার প্রথম বারকিন ব্যাগটিও একই নিলামঘরে বিক্রি হয়েছিল ১ কোটি ডলারে। এসব উচ্চমূল্যের বিক্রি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও বাজারের সামগ্রিক চিত্র এখন ভিন্ন।

কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী বাড়তি চাহিদার পর ব্যবহৃত (সেকেন্ড হ্যান্ড) বারকিন ব্যাগের নিলামদর ধীরে ধীরে কমছে। বার্নস্টাইনের সেকেন্ড হ্যান্ড প্রাইসিং ট্র্যাকার অনুযায়ী, ২০২২ সালে বারকিন ব্যাগের গড় পুনর্বিক্রয় মূল্য ছিল মূল দামের ২ দশমিক ২ গুণ। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তা নেমে এসেছে ১ দশমিক ৪ গুণে। জনপ্রিয় বারকিন টোগো ৩০ মডেলটি এখন নিলামে মূল খুচরা দামের কাছাকাছিতেই বিক্রি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে ধীরগতির কারণে উচ্চমূল্যের লাক্সারি পণ্যের ক্রেতা কমছে। একই সঙ্গে সেকেন্ড হ্যান্ড বারকিন ব্যাগের নিলাম বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। ফলে নিলামে এসব ব্যাগের দামে প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বার্নস্টাইনের বিলাস পণ্যবিষয়ক বিশ্লেষক লুকা সোলকা বলেন, ‘মহামারী-পরবর্তী বাড়তি চাহিদা থেকে আমরা এখন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরছি।’

তবে দাম কিছুটা কমলেও বারকিন ব্যাগের চাহিদা এখনো কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেকেন্ড হ্যান্ড লাক্সারি পণ্য বিক্রেতা রিব্যাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ব্যাগ বিভাগে হারমেসই সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিল। বেশির ভাগ বারকিন ব্যাগ এখনো মূল দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। নিলামদর কমলেও বৈশ্বিক লাক্সারি বাজারে হারমেসের অবস্থান এখনো শীর্ষেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খবর সিএনবিসি ও ছবি রয়টার্স