চীনসহ বিশ্বের শিল্পনির্ভর দেশগুলোতে চাহিদা হ্রাসে আকরিক লোহার দাম সাত মাসের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের বরাতে জানা গিয়েছে, বেঞ্চমার্ক আকরিক লোহার দাম ৮ শতাংশ কমে টনপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি চলে এসেছে। এপ্রিলের শেষের দিকেও টনপ্রতি ১৩৯ ডলারে বিক্রি হতো শিল্পপণ্যটি। খবর রয়টার্স ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

চলতি সপ্তাহে আকরিক লোহার দাম সাত মাসের সর্বনিম্নে দাঁড়িয়েছে। এ দাম হ্রাসের পেছনে দায়ী করা হচ্ছে চীনের নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিকে। নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে চীন আবার কঠোর বিধিনিষেধ জারি করতে পারে, যার কারণে নির্মাণ কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা থেকেই মূলত কমছে আকরিক লোহার দাম।

বাজার বিশ্লেষকরা সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সরকারের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ ওমিক্রন ধরনের নতুন যে উপধরন এ মুহূর্তে বিস্তার লাভ করছে তা অনেক বেশি সংক্রমণ ছড়ায়। সতর্কতার অংশ হিসেবে দেশের অন্তত তিন কোটি মানুষের চলাচল কিছু ক্ষেত্রে সীমিত করে দেয়া হয়েছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে সংক্রমণ ছড়ালে আরো কড়াকড়ি আরোপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

টানা দুই বছর মহামারীর কারণে বিশ্বের যে খাতগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো আবাসন নির্মাণ খাত। আবার যদি সংক্রমণ বাড়ে, নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করা হয় তাহলে স্বভাবতই তার রেশ আবারো নেতিবাচকভাবেই পড়বে খাতটির ওপর।

এএনজেডের সিনিয়র কমোডিটি স্ট্র্যাটেজিস্ট ড্যানিয়েল হায়নেস বলেন, চীনের আবাসন খাতে ইস্পাতের চাহিদা কমে যাওয়ার বড় প্রভাব পড়েছে আকরিক লোহার দামের ওপর।

চীনের অনেক শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক তাদের উৎপাদন সক্ষমতাকে কমিয়ে রেখেছে। যেহেতু ইস্পাতের চাহিদা কম তাই এ সময় বরং অনেকে রক্ষণাবেক্ষণের কাজও সেরে নিচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও কভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরো খারাপ হবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চায়না আয়রন অ্যান্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ থেকে ১০ জুলাই গড়ে প্রতিদিন অপরিশোধিত ইস্পাতের উৎপাদন কমেছে। এর আগের ১০ দিনের সঙ্গে তুলনা করলে তা কমেছে প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ। টনের হিসাবে কমেছে ২৪ হাজার ৩০০ টন। গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিনের গড় উৎপাদন কমেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

চীন এখনো শূন্য কভিড নীতিমালায় চলছে। ব্যবসা ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিপুল পরিমাণ প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন নতুন অনেক পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাইনিং প্রতিষ্ঠান রিও টিন্টো জানিয়েছে, গত ১৫ দিন ধরেই তারা নানা ধরনের সংকটের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে শ্রমিক সংকট, চীনের চাহিদা কমে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতির হুমকির কারণে এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। চীনে লকডাউনের কারণে মে মাসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার চীনের চাহিদা একেবারে কমে গিয়েছিল। জুনে এসে চাহিদা কিছুটা বাড়লেও জুলাইয়ে এসে আবারো অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ও লন্ডনের পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির ভীতি ভোক্তাদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে চলতি প্রান্তিকের ভোক্তাপণ্য মূল্যে। পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রভাবও পড়েছে অর্থনীতির ওপর।

গতকাল বিকালে রিও টিন্টোর শেয়ারপ্রতি মূল্য ২ শতাংশ হারে কমেছে। আরো দুটি আকরিক লোহা উৎপাদক বিএইচপি ও ফর্টেসবিউর শেয়ারমূল্যও যথাক্রমে ৪ ও ৫ শতাংশ হারে কমতে দেখা গিয়েছে।