ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য আমদানি বন্ধ করবে। এ সিদ্ধান্তের কারণে ডিজেলের বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় রদবদল ঘটেছে। ক্রেতারা আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগেই ডিজেলের মজুদ পরিপূর্ণ করতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন। চলতি মাসের এখন পর্যন্ত জ্বালানিটির আমদানি এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে উন্নীত হয়েছে। খবর রয়টার্স।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত ৫ ডিসেম্বর রাশিয়া থেকে সমুদ্রপথে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধ করে। মস্কোকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেয়ার লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ধারাবাহিকতায় এবার পরিশোধিত পণ্য আমদানি বন্ধ করতে যাচ্ছে ব্লকটি।
অন্যদিকে জি৭ ভুক্ত দেশ, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো রাশিয়ান জ্বালানি তেলের ওপর পাইস ক্যাপ (সর্বোচ্চ মূল্যসীমা) আরোপ করেছে। এর আওতায় প্রতি ব্যারেলের মূল্য বেঁধে দেয়া হয়েছে ৬০ ডলার।
পাইস ক্যাপের আওতায় নন-ইইউ দেশগুলো সমুদ্রপথে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারবে। কিন্তু প্রতি ব্যারেল ৬০ ডলারের কমে আমদানি করলে শিপিং, বীমা ও পুনঃবীমা কোম্পানিগুলো রাশিয়ান জ্বালানি তেলের কার্গো হ্যান্ডলিং করতে পারবে না।
গত ডিসেম্বরে রাশিয়ান উরাল ক্রুডের দাম লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। ভারতসহ অন্যান্য দেশে রাশিয়ান অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের কমে।
ইউরোপ রাশিয়ান ডিজেলের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। দেশ থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানিটির মুনাফা মার্জিন বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেনজি বলছে, ইউরোপীয় ডিজেলের মার্জিন (পরিশোধন প্রতিষ্ঠানগুলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলকে ডিজেলে রূপান্তর করে যে মুনাফা অর্জন করে) ব্যারেলপ্রতি গড়ে ৩৮ ডলারে পৌঁছেছে। ২০১৮-২২ সালের তুলনায় যা দ্বিগুণ বেশি।
চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ইউরোপে ডিজেল আমদানি দৈনিক গড়ে ৭ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে, যা ২০২১ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ। জ্বালানি তেলের বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সা এ তথ্য জানিয়েছে। ব্যবসায়ীরা আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগেই পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে তোড়জোড় শুরু করেছেন।
ব্লকটি বর্তমানে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ডিজেল আমদানি বাড়াচ্ছে। রাশিয়া থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ার পর অঞ্চল দুটি ইউরোপের জন্য বড় নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জাহাজীকরণ ব্যয় বাড়ছে। এর ফলে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে ভোক্তা ব্যয়ও।










