ভোক্তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য কম দামে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করলে ব্যবসায়ীরাও সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। গতকাল বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ি, ভোক্তার স্বার্থে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করি’ প্রতিপাদ্যে পালিত হয়েছে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস-২০২৪।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে চায় না সরকার। রমজানে অনেক ব্যবসায়ী এবং কোম্পানি মিল গেটের দামে পণ্য বিক্রি করছেন। এতে ভোক্তারা অনেকটা স্বস্তি পাচ্ছেন।’ তবে নিত্যপণ্যে যৌক্তিক কর ব্যবস্থাপনা না থাকলে ভোক্তারা উপকৃত হবেন না বলে মনে করেন তিনি।
আহসানুল ইসলাম জানান, ‘রোজায় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে তেলের দাম কমানো হয়েছে। পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রি চলমান। রোজার আগে ভারত থেকে পেঁয়াজ আনার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু নানা কারণে হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে আমদানি করা ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাজারে আসবে এবং তখন সাধারণ ভোক্তা এর সুফল পাবে। এছাড়া সরকার টিসিবির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের এক কোটি মানুষকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, ছোলা, চিনি ও খেজুর সরবরাহ করছে এবং তা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা কমানোর মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’
প্রতিমন্ত্রী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। এক্ষেত্রে তিনি চলমান বাজার তদারকির পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সচেতন করার লক্ষ্যে অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত মতবিনিময় সভা, সেমিনারসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কথা বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘পণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য ডলার অনেকটা দায়ী। পাশাপাশি শুল্ক-করও রয়েছে অনেক বেশি। এগুলো দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। কিছু নিত্যপণ্যে শুল্ক-কর থাকা ঠিক নয়। তবে কৃষকের স্বার্থে দেশে উৎপাদিত পণ্যে শুল্ক-কর থাকতে পারে।’
এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমিন হেলালী বলেন, ‘বাজারে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন বেশি দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ নিচ্ছেন। এদিক থেকে বেসরকারি খাতকে সচেষ্ট হতে হবে।’
বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘বাজারে অসম প্রতিযোগিতা ঠেকাতে অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, আমদানিকারক, উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন, বাজার সমিতিসহ সবার ভূমিকা রাখতে হবে। ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে পণ্যের অবৈধ মজুদ পরিস্থিতি তদারকি বিষয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রস্তুত করা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা তদারকি পদ্ধতি (এসসিএমএস) শীর্ষক সফটওয়্যারের পাইলটিং পর্যায়ের উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া ব্যবসায় উত্তম চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ চার ব্যবসায়ীকে ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ সম্মাননা দেওয়া হয়।










