স্থানীয় সরকারের ঋণ চীনা কর্তৃপক্ষের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। পৌরসভাগুলোর ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ কোটি ডলার। ব্যাপক ঋণগ্রস্ত স্থানীয় সরকারগুলোকে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো প্রকল্প স্থগিত অথবা বন্ধ করতে বলেছে চীন। চীনা সরকারের স্টেট কাউন্সিল চলতি সপ্তাহে এক নির্দেশনায় এ ঘোষণা দিয়েছে। ফলে দেশের ১২টি অঞ্চলে অর্ধেকেরও বেশি প্রকল্প হুমকিতে পড়বে। এর মাধমে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের পাশাপাশি ঋণের উচ্চ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করছে বেইজিং। খবর রয়টার্স।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ বলা হয় চীনকে। দেশটির আর্থিক খাত সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নানা সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি খাতের ঋণ নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। গত মাসগুলোয় ঋণের ঝুঁকি কমাতে উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর উদ্দেশ্য আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা।
সর্বশেষ নির্দেশনায় এক্সপ্রেসওয়ে, বিমানবন্দর পুনর্নির্মাণ এবং সম্প্রসারণ, গ্রামীণ রেল প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ প্রকল্পগুলো আগের নির্দেশনায় বাদ রাখা হয়েছিল।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন পাওয়া কিছু প্রকল্প এ নির্দেশনার বাইরে রাখা হয়েছে। চীনা সরকারের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে রয়টার্স। তবে তারা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
চীনা মন্ত্রিপরিষদের পক্ষে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেয় স্টেট কাউন্সিল ইনফরমেশন অফিস। এ অফিসে যোগাযোগ করেও রয়টার্স কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে পারেনি।
নতুন নির্দেশনায় কোন কোন প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখতে হবে তার বিস্তারিত তালিকা দেয়া হয়েছে। নীতিনির্ধারকরা পরামর্শ দিয়েছেন, বিনিয়োগের শর্ত কঠোর হলে অর্ধেক প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব।
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের সেন্ট্রাল ইকোনমিক ওয়ার্ক কনফারেন্সের এক বৈঠকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রপার্টি খাত, স্থানীয় সরকারে ঋণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকিগুলো দূর করতে হবে।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের সম্ভাব্য দেউলিয়াত্ব ঠেকাতে এবং দুর্বল প্রবৃদ্ধিতে গতি আনতে বেইজিং সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ২০২২ সালে চীনের স্থানীয় সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে দেশটির মোট জিডিপির ৭৬ শতাংশ, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৬২ শতাংশ বেশি। ওই সময় কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণ ছিল ২১ শতাংশ।










