জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। এতে অন্যতম প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে ইউক্রেনে রুশ সামরিক আগ্রাসন। বিশ্বের সিংহভাগ গম আসে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে। তবে ইরানে মূল্যস্ফীতি সমস্যা অনেক পুরনো। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য বলছে, ২০১৮ সালের পর থেকেই ইরানের মূল্যস্ফীতি ৩০ শতাংশ করে বাড়ছে। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পশ্চিমা শক্তির পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এতে উপসাগরীয় দেশটির ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়। ফলে দেশটির জ্বালানি তেল রফতানি সীমিত হয়ে পড়ে এবং মুদ্রার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকে।
বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বলা হচ্ছে তারা পুরনো চুক্তিতে ফিরে যেতে আগ্রহী। ইরান যদি তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্মত হয় তাহলে এ নিয়ে সমঝোতা করতে প্রস্তুত হোয়াইট হাউজ। কিন্তু করোনা মহামারী ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে কাঙ্ক্ষিত সমঝোতায় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক সাঈদ লাইলাজ বলেন, ইরানের মূল্যস্ফীতির হার ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রাক্কলনের চেয়ে এ হার বেশি। ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপীই মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। এতে ইরানিদের মাথাব্যথা আরো বেড়েছে। বিশ্ববাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধিতে ইরানে আরো কয়েক দফা বাড়ছে মূল্যস্ফীতি।
২০১৮ সালের মাঝামাঝি ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মূল্যনির্ধারণ করা হয় ৪২ হাজার। কিন্তু বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির জেরে বর্তমানে কালোবাজারে ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার মান ৩ লাখ রিয়াল ছাড়িয়েছে।
ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি লাল মাংসের দাম ৫০ শতাংশ, মুরগি ও দুধের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। এছাড়া স্প্যাগেটির দাম তিন গুণ ও রান্নার তেলের দাম চার গুণ বেড়েছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সাধারণ নাগরিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ রাস্তায় নেমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন ও পেনশন বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছেন পেশাজীবীরা। গত মঙ্গলবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন শ্রমমন্ত্রী হোজ্জাতোল্লাহ আবদোলমালেকি।
গত আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণ করা ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রুটি, জ্বালানি ও ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখবে তার সরকার। কিন্তু রুটি ও চালের দাম বেড়েই চলছে। তার সঙ্গে ইরানি রিয়ালের মান রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।










