প্রাকৃতিক রাবারের শীর্ষ উৎপাদক দেশ থাইল্যান্ড। দীর্ঘদিন ধরে পণ্যটির দাম কমতির দিকে রয়েছে। এ অবস্থায় গত মে-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাজার চাঙ্গা করতে চুক্তি অনুযায়ী পণ্যটির রফতানি কমিয়ে দেয় দেশটি। তবে এখন দেশটি এ খাত থেকে আয় বাড়াতে আবারো রফতানি বৃদ্ধির কথা ভাবছে। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাবার রফতানির সমঝোতাও করেছে থাইল্যান্ড। সম্প্রতি দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী জুরিন লক্ষ্যনাউইত এসব তথ্য জানান। খবর ব্যাংকক পোস্ট।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন হয় থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায়। বৈশ্বিক রাবারের প্রায় ৭০ শতাংশই সরবরাহ করে তারা। দেশ তিনটি নিয়ে গঠিত জোট ইন্টারন্যাশনাল থ্রিপাট্রিয়েট রাবার কাউন্সিল (আইটিরিসি)। বাজার চাঙ্গা করতে চলতি বছরের মার্চে জোটটি ২ লাখ ৪০ হাজার টন রাবার রফতানি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যা মে মাসের শেষের দিক থেকে সেপ্টেম্বরের শেষের দিক পর্যন্ত কার্যকর ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এ সময়ের মধ্যে দেশ তিনটির ৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৮ টন রাবার রফতানি কমিয়ে দেয়। এমনকি চলতি বছরের প্রথমার্ধেও দেশ তিনটি থেকে প্রাকৃতিক রাবারের রফতানি ১০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যায়।

এদিকে রফতানি কমার ফলে রাবারের ওপর নির্ভরশীল থাইল্যান্ডের কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে। যে কারণে নতুন করে রফতানি বাড়াতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড। এজন্য এরই মধ্যে চীন ও হংকংয়ের দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৮০ টন রাবার বিক্রি করতে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জুরিন লক্ষ্যনাউইত। এর মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির কাছে ১ হাজার ৩০০ কোটি বাথের (স্থানীয় মুদ্রা) সমপরিমাণ রাবার রফতানি করা হবে বলেও জানান তিনি।

হংকং ও চীনের প্রতিষ্ঠান দুটির কাছে বিক্রি হওয়া রাবারের মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮০ টন স্টান্ডার্ড থাই রাবার গ্রেড ২০ (এসটিআর-২০) ও ১ লাখ টন রিবড স্মোকড শীট-৩ (আরএসএস-৩) রফতানি করা হবে।

মন্ত্রী জানান, চলতি বছর এরই মধ্যে ভারতের বাজারে এক লাখ টন রাবার রফতানি করা হয়েছে, যা থেকে দেশটির আয় হয়েছে ৭৫০ কোটি বাথ। এছাড়া তুরস্ক ও জার্মানিতে আরো অধিক পরিমাণ রাবার রফতানি করতে শিগগিরই দেশ দুটিতে যাবেন তিনি।