ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক উন্নয়নকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের। এর বাইরে ‌বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি উন্মুক্ত এবং প্রবৃদ্ধি চাঙ্গায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি। দ্বীপ প্রদেশ হাইনানে একটি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক শীর্ষ সম্মেলনে লি এ কথা বলেছেন।

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ, চিপ সরবরাহে বাধা, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার জোরদার করার কথা জানালেন লি। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বেইজিংয়ের সঙ্গে সবারই ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেন লি। বার্ষিক বোও ফোরামে তিনি বলেন, ‘‌বিশ্বে যে পরিবর্তন ঘটুক না কেন, আমরা সবসময় সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ নীতি মেনে চলব। ‌বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ ও ব্যবসার পরিবেশকে অনুকূল করার জন্য আমরা বেশকিছু নতুন পদক্ষেপ প্রবর্তন করব। উন্নয়নের জন্য শান্তি হলো পূর্বশর্ত।’

কভিড নিয়ন্ত্রণ নীতি তিন বছর চীনের অর্থনীতিকে কাবু করেছিল। গত ডিসেম্বরে কভিড নীতি থেকে সরে আসার পর দেশটির অর্থনীতি বিস্তার লাভ করছে। ২০২২ সালে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর চলতি বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বেসরকারি কিছু সংস্থার প্রাক্কলনের চেয়ে কম।

লি বলেন, ‘‌মার্চের পরিস্থিতি জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় ভালো। বিশেষত, প্রধান অর্থনৈতিক সূচক ভোগ ও বিনিয়োগের উন্নতি অব্যাহত এবং মূল্য ও কর্মসংস্থান স্থিতিশীল রয়েছে।’

বছরের পর বছর দুই পরাশক্তি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে চীনা বেলুনকাণ্ডে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এছাড়া তাইওয়ান নিয়ে দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থান দেখা গেছে। সর্বশেষ গত বুধবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং নিউইয়র্ক সফরে গেছেন। চীন এটিকে ভালোভাবে নেয়নি। লি তার বক্তব্যে বলেছেন, এশিয়ায় ‘‌বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত’ ঘটবে না। চীন বৈশ্বিক শান্তির ‘‌ নোঙর’ হিসেবে কাজ করবে।