নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যে ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশির ভাগ দেশের ইস্পাত শিল্প চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কমে গেছে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম চীন। করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাঝেও দেশটির ইস্পাত শিল্প সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। কমেনি উৎপাদন। উল্টো বছরের প্রথম ১১ মাসে (জানুয়ারি-নভেম্বর) চীনে শিল্প ধাতুটির সম্মিলিত উৎপাদনে সাড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। চায়না আয়রন অ্যান্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (সিআইএসএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ পরিস্থিতি করোনাকালে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে পথে অগ্রযাত্রায় চীনকে এক ধাপ এগিয়ে দেবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর মেটাল বুলেটিন ও সিনহুয়া।
চীন বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ। বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত ইস্পাতের অর্ধেকের বেশি চীনের কারখানাগুলোয় উৎপাদন হয়। সিআইএসএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসে চীনের কারখানাগুলোয় সব মিলিয়ে ৯৬ কোটি ১১ লাখ ৬০ হাজার টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
মাসভিত্তিক হিসাবে সর্বশেষ নভেম্বরে চীনের কারখানাগুলোয় সব মিলিয়ে ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিআইএসএ, যা আগের মাসের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। এ সময় দেশটিতে অপরিশোধিত ইস্পাতের দৈনিক গড় উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২৯ লাখ ২০ হাজার টনে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, চলতি বছর চীনে অপরিশোধিত ইস্পাতের বার্ষিক উৎপাদন ১০০ কোটি টনের মাইলফলক ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর মধ্য দিয়ে চীনের ইস্পাত উৎপাদনে ৩-৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে চীনের কারখানাগুলোয় সব মিলিয়ে ৯৯ লাখ ৬৩ হাজার টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে শিল্প ধাতুটির বৈশ্বিক উৎপাদনের ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ নিজেদের দখলে রেখেছিল চীন। এক দশক আগেও বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদনের ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ হিস্যা চীনের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২০ সাল শেষে চীনের কারখানাগুলোয় অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের সম্মিলিত পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১০৪ কোটি ৫০ লাখ টনে। আগামী বছর দেশটিতে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন আরো বেড়ে ১০৬ কোটি ৮০ লাখ টনে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ চীনের ইস্পাত উৎপাদন শিল্পে করোনা মহামারীর প্রত্যক্ষ কোনো প্রভাব পড়ছে না।
চীনের উহান থেকে পুরো বিশ্বে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই করোনার বিরুদ্ধে প্রথম লড়াই শুরু করেছিল চীন। বছরের শুরুর দিকে দীর্ঘদিন কঠোর লকডাউনে ছিল দেশটি। ওই সময় চীনের ইস্পাত কারখানাগুলোর কার্যক্রম অনেকটা শ্লথ হয়ে এসেছিল। তবে লকডাউন উঠে যাওয়ার পর পরই দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে চীনের ইস্পাত উৎপাদন শিল্প। পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বছরের প্রথম ১১ মাসেই শিল্প ধাতুটির সম্মিলিত উৎপাদনের পরিমাণ ১০০ কোটি টনের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।
উৎপাদন খাতের এ চাঙ্গাবস্থা চলতি বছর চীনের ইস্পাত রফতানিকেও চাঙ্গা রাখতে পারে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২০ সাল শেষে চীন থেকে ইস্পাত রফতানির পরিমাণ ৫ কোটি ৪০ লাখ থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ টনের মধ্যে থাকতে পারে। ২০২১ সালে চীনের ইস্পাত রফতানি আরো বেড়ে ৬ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৭ কোটি ৫০ লাখ টনে উন্নীত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি-নভেম্বর সময়ে চীনে সব মিলিয়ে ৮১ কোটি ২৯ লাখ টন পিগ আয়রন উৎপাদন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিআইএসএ, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। শুধু নভেম্বরে দেশটিতে ব্যবহারিক ধাতুটির উৎপাদনে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৭ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার টন পিগ আয়রন।










