নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যেও কম্বোডিয়ার চাল রফতানিতে চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে। বছরের প্রথম ১১ মাসে (জানুয়ারি-নভেম্বর) দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যটির রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়ে ছয় লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। কম্বোডিয়ার কৃষিমন্ত্রী ভেং সাখোন এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর সিনহুয়া ও রয়টার্স।

চাল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় কম্বোডিয়ার অবস্থান ১৩তম। তবে খাদ্যপণ্যটির রফতানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায় দেশটি অষ্টম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

কম্বোডিয়ার কৃষিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি-নভেম্বর সময়ে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬ লাখ ১ হাজার ৪৫ টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

এ সময় চীনের বাজারে সবচেয়ে বেশি চাল রফতানি করেছে কম্বোডিয়া। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি-নভেম্বর সময়ে কম্বোডিয়া থেকে চীনে সব মিলিয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৪০ টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। গত ১১ মাসে কম্বোডিয়া থেকে রফতানি হওয়া ৩৯ শতাংশ চালের গন্তব্য ছিল চীন।

একই সময়ে কম্বোডিয়া থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৪৩৬ টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। এ সময় কম্বোডিয়া থেকে রফতানি হওয়া ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ চালের গন্তব্য ছিল ইইউ।

তবে ১১ মাসে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও চলতি বছর কম্বোডিয়া থেকে চাল রফতানির লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয় রয়ে যাচ্ছে। কম্বোডিয়ার মিনিস্ট্রি অব এগ্রিকালচার, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড ফিশারিজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটি থেকে আট লাখ টন চাল রফতানির লক্ষ্য রয়েছে। লক্ষ্যপূরণ করতে হলে ডিসেম্বরে কম্বোডিয়া থেকে আরো প্রায় দুই লাখ টন চাল রফতানি করতে হবে। এক মাসে প্রায় দুই লাখ টন চাল রফতানি করা দেশটির রফতানিকারকদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।

অনেকটা একই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। প্রতিষ্ঠানটির ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি বছর কম্বোডিয়া থেকে সব মিলিয়ে ১৩ লাখ টন চাল রফতানি হতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি।