নিকেলের বৈশ্বিক ব্যবহার অব্যাহতভাবে বাড়ছে। মূলত স্টেইনলেস ইস্পাত ও দ্রুতবর্ধনশীল ব্যাটারি খাতে ধাতুটির ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা ব্যবহার বাড়াতে সহায়তা করেছে। গত বছর ধাতুটির ব্যবহারে বড় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছিল। ২০২০ সালের তুলনায় ব্যবহারের হার ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছর ব্যবহার আরো বাড়বে। ফলে বাজারে ঘাটতির পরিবর্তে উদ্বৃত্ত দেখা দিতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল নিকেল স্টাডিজ গ্রুপ সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানায়, ব্যবহার বাড়ায় বাজারে ১ লাখ ৬৮ হাজার টন নিকেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এটি এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ উৎপাদন ঘাটতি।
গ্রুপটি মনে করছে, চলতি বছর নিকেলের ব্যবহার আরো ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে। প্রথমবারের মতো ব্যবহারের পরিমাণ ৩০ লাখ টনের মাইলফলক ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে চলতি বছর ধাতুটির বাজারে ঘাটতির পরিমাণ কমবে। কারণ ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি নিকেলের বৈশ্বিক উত্তোলন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। নিকেল স্টাডিজ গ্রুপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর ধাতুটির উত্তোলন ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে। বড় প্রবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখবে ইন্দোনেশিয়ার সম্প্রসারিত সক্ষমতা।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে ৬৭ হাজার টন নিকেল উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে নিকেল স্টাডিজ গ্রুপ। এটি বাজারে দাম কমে যাওয়ারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত বছরের এপ্রিলে নিকেল স্টাডিজ গ্রুপ জানায়, ২০২১ সালে নিকেলের বৈশ্বিক চাহিদা মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে। চাহিদার হার বাড়বে ৯ শতাংশ। শুধু তাই নয়, ধাতুটি থেকে আয় বাড়ারও পূর্বাভাস দিয়েছিল এ গ্রুপ।
নিকেলের ব্যবহার বাড়াতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে স্টেইনলেস ইস্পাত। ইন্টারন্যাশনাল স্টেইনলেস স্টিল ফোরাম জানায়, গত বছর বৈশ্বিক অ্যালয় উত্তোলন ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ৬৩ লাখ টনে উন্নীত হয়।
চীন বিশ্বের শীর্ষ স্টেইনলেস ইস্পাত উৎপাদক দেশ। গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে দেশটির উৎপাদনের গতি মন্থর হয়ে পড়ে। ফলে বছর শেষে উৎপাদনে মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আসে।
তবে চলতি বছর করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবে চীনে স্টেইনলেস ইস্পাত উৎপাদন কমেছে। এ কারণে নিকেলের চাহিদা নিম্নমুখী। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে ভারসাম্য এনেছে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি উৎপাদন খাত।
গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছর বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি উৎপাদন খাতে নিকেলের ব্যবহার ৬২ শতাংশ বাড়তে পারে। ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৮৫ হাজার টনে। আগামী বছর ব্যবহার আরো ২৬ শতাংশ বেড়ে ৩ লাখ ৫৮ হাজার টনে উন্নীত হতে পারে।










