আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দাম সত্ত্বেও গত মাসে রেকর্ড ছুঁয়েছে ভারতের কয়লা আমদানি। অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি ফেরা এবং স্থানীয় বাজারে জ্বালানিটির ঘাটতি মোকাবেলার লক্ষ্যেই আমদানি বাড়ানো হয়েছে। পণ্যবাহী জাহাজের তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভ ও তিনটি বাণিজ্যিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কোলমিন্ট ও কেপলার এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আই-এনার্জি ন্যাচারাল রিসোর্সেস জানায়, গত মাসে ভারত ২ কোটি ৫০ লাখ টনেরও বেশি ধাতব ও তাপীয় কয়লা আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বেড়েছে।

প্রধানত বিদ্যুৎ উৎপাদনেই তাপীয় কয়লা ব্যবহার করে ভারত। গত মাসে এটির আমদানি দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ টনে। একই সময় ইস্পাত তৈরিতে ব্যবহূত ধাতব কয়লা আমদানি দাঁড়িয়েছে ৫৪ লাখ টনে। কোলমিন্ট ও আই-এনার্জির দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এমনটা জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতে উৎপাদিত বিদ্যুতের তিন-চতুর্থাংশই আসে কয়লা থেকে। এছাড়া ভারতে কয়লা ব্যবহারের ৭৫ শতাংশই যায় ইউটিলিটি খাতে।

জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশটিতে বিদ্যুতের চাহিদা ৩৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে। তার ওপর রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম আকাশচুম্বী। এ কারণে দেশটির অর্থনীতি আবারো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আই-এনার্জির দেয়া তথ্য বলছে, গত মাসে তাপীয় কয়লা আমদানি ৪০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময় ধাতব কয়লা আমদানি বেড়েছে ২৩ শতাংশ।

কেপলার জানায়, জুনে ভারতে সবচেয়ে বেশি কয়লা সরবরাহ করেছে ইন্দোনেশিয়া। তিন গুণ বেড়ে দেশটি থেকে কয়লা আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪৫ লাখ টনে। একই সময় রাশিয়া থেকে আমদানি দ্বিগুণ বেড়ে ১২ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। 

তবে অন্য দুই শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম ছিল। যদিও চলতি বছরের মে মাসের তুলনায় দেশ দুটি থেকে আমদানি বেড়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি কমে চার মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে।

এদিকে বছরের আসন্ন মাসগুলোয় ভারতে কয়লা আমদানি আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোল ইন্ডিয়া আগামী ১২ মাসের জন্য অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ টন কয়লা আমদানির ক্রয়াদেশ দিয়েছে। উদ্দেশ্য ইউটিলিটিগুলোর ঘাটতি পূরণ করা। এছাড়া ইন্দোনেশিয়াও ভারত থেকে ব্যাপক চাহিদা প্রত্যাশা করছে।