দৈনন্দিন ডিজিটাল যোগাযোগের একটি বড় অংশজুড়ে আছে হোয়াটসঅ্যাপ। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, অফিসের কাজের আপডেট, ছবি আদান-প্রদান এমনকি ব্যাংক থেকে পাঠানো সতর্কবার্তাও আসে এ অ্যাপে। ফলে প্রতারণা বা গোপন নজরদারির জন্য এটি হয়ে উঠেছে সহজ লক্ষ্য।

তবে হোয়াটসঅ্যাপ নিরাপদ রাখা খুব কঠিন নয়, শুধু দরকার একটু সচেতনতা। অ্যাপটিতে থাকা কয়েকটি বিল্ট–ইন সেটিং ঠিকভাবে চালু ও ব্যবহার করলে বেশির ভাগ ঝুঁকি ঠেকানো সম্ভব। নিচে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে সহায়ক এমন চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিং এবং সেগুলো চালু করার উপায় তুলে ধরা হলো—

টু স্টেপ ভেরিফিকেশন

টু স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু থাকলে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে একটি গোপন পিন যুক্ত হয়। নতুন কোনো ডিভাইসে ফোন নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকতে চাইলে পিনটি দিতে হয়। এক্ষেত্রে এসএমএস ভেরিফিকেশন কোড পেলেও পিন ছাড়া অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যাবে না। এটি ফোনের লক স্ক্রিনের পিন বা পাসওয়ার্ড থেকে আলাদা। টু স্টেপ ভেরিফিকেশন অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত সুরক্ষার স্তর যোগ করে, যা ভাঙা বেশ কঠিন। ফিচারটি চালু করতে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে সেটিংসে যেতে হবে। এরপর অ্যাকাউন্ট অপশনে ট্যাপ করে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন নির্বাচন করতে হবে। সেখানে ‘ইনেবল’ চেপে সহজে অনুমান করা যায় না এমন ছয় অংকের একটি শক্ত পিন সেট করতে হবে। এতে আপনার অ্যাকাউন্ট অননুমোদিত প্রবেশ থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে।

চাইলে পিন ভুলে গেলে পুনরুদ্ধারের জন্য একটি ই-মেইল ঠিকানাও যোগ করা যায়। টু স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু থাকলে হোয়াটসঅ্যাপ সময় সময় পিনটি মনে করিয়ে দিতে বলবে, যেন সেটি স্মৃতিতে তাজা থাকে।

স্ক্রিন লক

স্ক্রিন লক ফিচার চালু থাকলে ফোনের ফেস আইডি বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ লক করা যায়। ফলে কেউ ফোন হাতে পেলেও অনুমতি ছাড়া চ্যাটগুলোয় ঢুকতে পারবে না। অফিস বা বাসার মতো জায়গায় যেখানে চাইলেই অন্য কেউ ফোন ধরতে পারে, সেখানে এ ফিচার বেশ কার্যকর।

ফিচারটি চালু করতে হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস থেকে প্রাইভেসি অপশনে ট্যাপ করে স্ক্রিন লক নির্বাচন করতে হবে। একবার চালু হলে শুধু আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি দিয়েই হোয়াটসঅ্যাপ খোলা যাবে। এতে ফোন আনলক থাকলেও আপনার বার্তা ও ব্যক্তিগত কথোপকথন নিরাপদ থাকবে।

লাস্ট সিন ও অনলাইন স্ট্যাটাস

লাস্ট সিন ও অনলাইন স্ট্যাটাস লুকিয়ে রাখলে অচেনা কেউ বুঝতে পারে না ব্যবহারকারী কখন অ্যাপে সক্রিয় থাকেন। এতে কারো হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের নিয়মিত সময় ও নজরদারি করা বা সে তথ্য দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা কঠিন হয়ে পড়ে।

গ্রুপ

হোয়াটসঅ্যাপে স্প্যাম ছড়ানোর অন্যতম বড় উৎস হলো গ্রুপ। অনেক সময় অচেনা মানুষ ভুয়া পুরস্কার বা বিজ্ঞাপনের গ্রুপে যোগ করে দেয়। হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংয়ের মাধ্যমে কে ব্যবহারকারীকে গ্রুপে যোগ করতে পারবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এতে অপ্রয়োজনীয় গ্রুপ এড়িয়ে চলা সহজ হয় ও তালিকাও পরিচ্ছন্ন থাকে।