ক্রমপরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর তাগিদে প্রতিনিয়তই নিজেকে পরিবর্তন করে চলেছে বৈশ্বিক চা শিল্প। চায়ের দ্বীপ হিসেবে পরিচিত শ্রীলংকাও বৈশ্বিক পণ্যটিতে বৈচিত্র্য নিয়ে আসছে। দেশটির সাতটি বিশেষ অঞ্চলে অনন্য স্বাদের চা পাওয়া যায়, যা শ্রীলংকাকে করে তুলেছে চা-প্রিয়দের তীর্থস্থান। খবর খালিজ টাইমস।
দীর্ঘদিন ধরেই বৈচিত্র্যের জন্য শ্রীলংকার চা শিল্প বিশ্বে অনন্য জায়গা নিয়ে রেখেছে। বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া নিয়ে দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রধান চা উৎপাদন অঞ্চল হচ্ছে ন্যুয়ারা এলিয়া, ইউভা, ডিম্বুলা, উডা পুসেলাওয়া, ক্যান্ডি, রুহুনা ও সাবারাগামুয়া। একেক অঞ্চলে একেক স্বাদের চা হওয়ায় বিশ্বকে ভিন্ন স্বাদ, গন্ধ, রঙ ও খাদ্যগুণের চা উপহার দিচ্ছে শ্রীলংকা। বিশ্বের আর কোনো জায়গায় এমন বৈচিত্র্যময় চা পাওয়া যায় না।
চায়ের মান ও গুণ নির্ধারণ করে শ্রীলংকা টি বোর্ড, যা দেশটির চা শিল্পের সর্বোচ্চ পরিষদ। রিটেইল চায়ের প্যাকেটে ‘সিংহ লোগো’ থাকা মানে হচ্ছে খাঁটি চায়ের নিশ্চয়তা এবং এটা নিশ্চিত করছে শ্রীলংকার টি বোর্ড। গত বছর ই-প্লাটফর্মে চা নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলংকার চা শিল্প। এতে বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যেও ক্রেতারা সিলন চায়ের পর্যাপ্ত সরবরাহ পেয়েছে।
ব্ল্যাক অর্থোডক্স চায়ের সবচেয়ে বড় রফতানিকারক দেশ শ্রীলংকা, যা বৈশ্বিক চা রফতানির ১৫ শতাংশ। বর্তমানে প্রায় ১৫০টি দেশে সিলন চা রফতানি হয়। সিলন চায়ের অনন্যতার কারণ হচ্ছে এটা যেভাবে উৎপাদন হয় তাতে এর স্বাদ, মান অক্ষুণ্ন থাকে।
মধ্যাঞ্চলীয় পাহাড়ি অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দুই হাজার থেকে ছয় হাজার ফুট উঁচুতে চা চাষ হচ্ছে। অনুকূল জলবায়ুর কারণে একেবারে প্রিস্টিন পরিবেশে চা উৎপাদন হয়। এজন্য বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন চা পাওয়া যায় শ্রীলংকায়।
সিলন চা শিল্প প্রতিনিয়ত নিজেদের ঢেলে সাজাচ্ছে এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে। টেকসইতা ও বিশ্বের উত্তম চর্চাগুলো অনুসরণের জায়গায় শ্রীলংকার চা শিল্প বড় আকারের বিনিয়োগ করছে। চাষাবাদ, উৎপাদন, মজুদ, পরিবহন ও বিপণনের
জায়গায় ভবিষ্যত্মুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা। বাণিজ্যের দিক ছাড়িয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেছে সিলন চা।
বিশ্বের পরিচ্ছন্ন চা হিসেবে সিলন চাকে স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (আইএসও)। মনট্রিল প্রটোকলের আওতায় প্রথম ও একমাত্র দেশ হিসেবে ওজনবান্ধব চা উৎপাদকের সম্মান পেয়েছে শ্রীলংকা। বর্তমানে শ্রীলংকার অনেক চা উৎপাদক কোম্পানিই আইএসও, এইচএসিসিপি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সনদ অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে অন্যান্য চা উৎপাদক দেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটি। জিরো কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথেও কাজ করে যাচ্ছে শ্রীলংকার চা বোর্ড। কার্বন নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে স্থান করে নেয়ার ক্ষেত্রে একটি উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। এ শিল্পের সব স্টেকহোল্ডার একসঙ্গে অর্থোডক্স চায়ের বাজারে নেতৃত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে চা বিপণনপ্রধান প্রেমালা শ্রীকান্ত জানান, বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৫০ দেশে সিলন চা রফতানি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চল তাদের মোট চা আমদানির ৫৩ শতাংশ করে শ্রীলংকা থেকে। সে কারণে অঞ্চলটি এখনো শ্রীলংকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজার।










