জুলাই ও আগস্টে উত্তোলনের পরিমাণ বাড়ানোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে জ্বালানি তেল রফতানিকারক ও সহযোগী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক প্লাস। একই সময়ে নিজেদের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ উন্মুক্ত করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি। মূলত ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান পরিচালনার কারণে রুশ জ্বালানি তেল বাণিজ্যে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কাটাতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির পরিমাণ দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার ব্যাপারে একমত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটস।
গালফ ইন্টেলিজেন্সের ডেইলি এনার্জি পডকাস্টে গতকাল ভিটল এশিয়ার কর্মকর্তা মাইক মুলার বলেন, রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনের পরিমাণ আগের তুলনায় অপরিবর্তিত। রুশ জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তবে তা অনেকাংশে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করছে। উৎপাদন স্বল্পতার এ সংকট ওপেক প্লাসের উত্তোলন বাড়ানোর দ্বারা কাটিয়ে ওঠা যেতে পারে, একই সঙ্গে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ উন্মুক্ত করার ব্যাপারটিও আমাদের মনে রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার ওপেক প্লাসের মন্ত্রীরা একমত পোষণ করেন, জুলাইয়ে দেশগুলোর দৈনিক অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৮ হাজার ব্যারেল পরিমাণ বাড়ানো হবে। আগস্টে দৈনিক অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের পরিমাণ বাড়ানো হবে অতিরিক্ত ৬ লাখ ৪৮ হাজার ব্যারেল, যা মাসিক ভিত্তিতে দৈনিক অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের সাধারণ পরিমাণ ৪ লাখ ৩২ হাজার ব্যারেলের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
মাইক মুলার বলেন, ওপেক প্লাসের এমন সিদ্ধান্ত একটি আশ্চর্যজনক বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য ভোক্তা দেশগুলোর চাপের মুখে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে পেট্রলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এর মাধ্যমে কিছু পূর্বাভাসের তুলনায় জ্বালানি তেলের দাম আরো বেশি সহজ অবস্থানে থাকবে। এর মাধ্যমে ওপেক প্লাসের দেশগুলো তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অনুরোধ এবং ইউরোপে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ে নতুন করে চাপ সৃষ্টি না করার ক্ষুদ্র ইঙ্গিত প্রদান করে।
প্ল্যাট অ্যানালিটিকসের বিশ্লেষণ মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্বারা রুশ জ্বালানি তেল আমদানি সীমিতকরণের ফলে বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া থেকে অঞ্চলটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পরিমাণ প্রতিদিন ১৯ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমবে। এছাড়া একই সময়ে রাশিয়া থেকে প্রতিদিন ১২ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত পরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়া হবে। যদিও বর্তমানে পাইপলাইনের মাধ্যমে হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রে তিন লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
অন্যদিকে জুলাই ও আগস্টের মধ্যবর্তী সময়ে কৌশলগত পেট্রোলিয়ামের মজুদ থেকে ৩ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল সোর ক্রুড (উচ্চমাত্রার সালফারযুক্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলকে সোর ক্রুড বলা হয়) ও ১১ লাখ ব্যারেল সুইট ক্রুড (অল্প পরিমাণে হাইড্রোজেন সালফাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলকে সুইট ক্রুড বলা হয়) উন্মুক্ত করা হবে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিজেদের কৌশলগত মজুদ থেকে জ্বালানি তেল উন্মুক্ত করার সর্বোচ্চ পরিমাণ এটি।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটের মতে, কৌশলগত মজুদ থেকে এ পরিমাণ জ্বালানি তেল উন্মুক্তকরণ এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাজারে প্রতিদিন ৯ লাখ ৫ হাজার ব্যারেল তেল যুক্ত করবে। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি কর্তৃক সংগঠনটির কৌশলগত মজুদ থেকে একই সময়ে প্রতিদিন ১৪ লাখ ব্যারেল তেল উন্মুক্ত করবে সদস্য দেশগুলো।
বৈশ্বিক তেলের দাম সহনশীল করা, রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর ইউরোপের নির্ভরতা কমিয়ে আনা এবং চার দশকের রেকর্ড মূল্যস্ফীতির কারণে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত মজুদ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।










