জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থনীতির রূপান্তর ও পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিনিয়োগ বাড়ছে। সম্প্রতি দাতা প্রতিষ্ঠান এরা ভিসি ৫ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। অন্যদিকে এভারসোর্স ক্যাপিটাল তার দ্বিতীয় তহবিল বাড়ানোর জন্য ৭০ কোটি ডলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

এরা ভিসির প্রতিষ্ঠাতা ডেরেক হ্যান্ডেলি জানান, তাদের নতুন তহবিলের জন্য ৫ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এটা ছোট বিনিয়োগ তহবিল। এটি ফার্মের মূল তহবিলের পাশাপাশি রাখা হবে। এছাড়া এরা ভিসি বিশ্বজুড়ে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করছে। যাতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান এ তহবিল ব্যবহার করে নতুন প্রযুক্তির বিকাশ করতে পারে।

২০১৬ সালে এরা ভিসি চালু করা হয়। সাধারণত এরা কোনো স্টার্টআপে ৫-১০ লাখ ডলারের মতো অর্থ বিনিয়োগ করে। এ পর্যন্ত মোট ২৪টি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছে এরা। এর মধ্যে ১২টি কোম্পানি কার্বন নিঃসরণ কমাতে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এরার বিনিয়োগের অন্যতম লক্ষ্য হলো প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নকে সমর্থন করা।

ডেরেক হ্যান্ডেলি জানান, এরা কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করার লক্ষ্যে স্টার্টআপগুলোয় বিনিয়োগ করতে চায়। এ কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগের মাধ্যমে এরার লক্ষ্য কার্বণ নিঃসরণ হ্রাস করার মতো প্রযুক্তির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা।

ডেরেক হ্যান্ডেলি বলেন, ‘‌এ ধরনের কোম্পানিতে বিনিয়োগ রিটার্ন ও একটি টেকসই ভবিষ্যৎ তৈরি করবে।’

এরা ভিসি বিনিয়োগগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরে ফ্রান্স, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রসারণ করতে চায়। তহবিলের পোর্টফোলিওতে প্রাণের মতো কোম্পানি রয়েছে, যারা ফিল্টার ছাড়াই বায়ু বিশুদ্ধকরণে বিশেষজ্ঞ। আরো রয়েছে শিওক মিটস, সিঙ্গাপুরভিত্তিক সেল-ভিত্তিক সামুদ্রিক খাদ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি ও ফরাসি নিওব্যাংক গ্রিন-গট।

যদিও এভারসোর্স ক্যাপিটাল তার তহবিল সংগ্রহের অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গ্রিন গ্রোথ ইকুইটি তহবিলের সাফল্যের পর একটি নতুন তহবিল নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করছে। গ্রিন গ্রোথ ইকুইটি ফান্ড জানুয়ারি ২০২২ সালে ৭৪ কোটি ১০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছিল। এভারসোর্স সক্রিয়ভাবে কাঠারি ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ও অ্যাক্রেটিভ ক্লিনটেক ফাইন্যান্সের মতো প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের মাধ্যমে ডিকার্বনাইজেশনের দিকে মনোনিবেশ করছে।

এইচএসবিসির মতো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান র‍্যাডিক্যাল ফান্ড ও এডিএম ক্যাপিটালের মতো বিনিয়োগ তহবিলগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জলবায়ু-প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোয় বিনিয়োগ করছে। এইচএসবিসি সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী উদীয়মান জলবায়ু-প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ১০০ কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। র‍্যাডিক্যাল ফান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকেন্দ্রিক তহবিলের জন্য জুলাইয়ে ৪০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এডিএম ক্যাপিটাল ইন্দোনেশিয়া জলবায়ু তহবিলের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করছে।