পণ্যের গায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংক্রান্ত লেবেল কেনার ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখতে পারে। গ্রাহক জরিপের ওপর ভিত্তি করে জার্নাল অব হসপিটালিটি মার্কেটিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যাচ্ছে। খবর সিএনএন।

গবেষণাটি পরিচালিত হয় গত জুনে। এ সময় বিভিন্ন বয়সী অংশগ্রহণকারীর সামনে নির্দিষ্ট একটি পণ্য রাখা হয়, যেখানে শুধু একটি পার্থক্য ছিল। কিছু পণ্যকে ‘হাই টেক’ হিসেবে লেবেল করা হয়েছিল এবং অন্যগুলোয় এআই-সংক্রান্ত লেবেল যোগ করা হয়েছিল। গবেষণা শেষে দেখা যায়, টেক কোম্পানিগুলো এআই প্রযুক্তি বিকাশে ব্যাপক বিনিয়োগ করলেও পণ্যে এআই লেবেল গ্রাহক আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে গবেষক ও ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির হোটেল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ডোগান গুরসয় জানান, গবেষণায় ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, টিভি, ভোক্তা সেবা এবং স্বাস্থ্য সেবাসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবা পরীক্ষা করা হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, বিবরণে এআই উল্লেখ ছিল ক্রেতাদের মাঝে এমন পণ্য কেনা বা ব্যবহার করার ইচ্ছা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

তিনি বলেন, ‘এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি সত্ত্বেও দৈনন্দিন জীবনে এটি গ্রহণে জনসাধারণের দ্বিধার বিষয়টি উঠে এসেছে গবেষণায়। সেই সঙ্গে গবেষণায় দেখা যায়, বড় টেক কোম্পানিগুলো যেসব উদ্ভাবন নিয়ে উৎসাহ বোধ করে, সেগুলোকে মানুষ নিজেদের সঙ্গে সম্পর্কহীন মনে করছে।’

কীভাবে এআইয়ের মাধ্যমে চালিত পণ্য গ্রাহকের মনোভাবকে প্রভাবিত করে, তাও গবেষণা উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, গ্রাহকরা গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি ও চালকবিহীন গাড়ি বা এআই নির্ভর চিকিৎসা পরিষেবাগুলোর মধ্যে ঝুঁকির বিবেচনায় পার্থক্য করে। সেখানে পণ্য ক্রয়ে অনিচ্ছার সঙ্গে এআই-সংক্রান্ত জটিলতা দেখেছেন গবেষকরা।

এআই পণ্যগুলো সম্পর্কে গ্রাহকের ধারণাকে প্রভাবিত করে এমন দুই ধরনের বিশ্বাসের শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রাহকের একটি অংশ মনে করে যন্ত্র পরিচালনাকারী হিসেবে এআই নির্ভুল হওয়া উচিত। যখন এআই ভুল করে তখন বিশ্বাস দ্রুত কমে যেতে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, গুগলের এআই জেনারেটেড সার্চ সারাংশ বিভ্রান্তিকর বা সঠিক নয়, এমন তথ্য সরবরাহ করায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছে।

গবেষণায় প্রকাশিত আরেকটি তথ্যে জানা যায়, এআই সম্পর্কে সীমিত জ্ঞানের কারণে গ্রাহক প্রায়ই আবেগের ওপর নির্ভর করে রায় দেয়। অজানার প্রতি ভয় তাদের দ্বিধা বাড়াতে অবদান রাখে।

দৈনন্দিন ব্যবহার্য যন্ত্র ও নেটফ্লিক্সের মতো জনপ্রিয় পরিষেবায় এআইয়ের ব্যবহার হয়ে আসছে, যা এখন সবার হাতের নাগালেই থাকে। কিন্তু হলিউড চলচ্চিত্রে হুমকি হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিত্রায়ণ জনসাধারণের ধারণাকে নেতিবাচক দিকে প্রভাবিত করেছে বলে জানান গবেষকরা।

এছাড়া এআই পণ্য ব্যক্তিগত তথ্যকে কীভাবে পরিচালনা করে তা নিয়েও ঝুঁকি রয়েছে বলে জানান অংশগ্রহণকারীরা। গবেষকরা বলছেন, গোপনীয়তা ও ডাটা ব্যবস্থাপনাবিষয়ক উদ্বেগ এআই নির্ভর সরঞ্জামের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাড়বাড়ন্ত সময়ে আগ্রহ কমার হার দিন দিন বাড়ছে।

গবেষক ডোগান গুরসয় জোর দিয়ে বলেন, ‘এআই অ্যালগরিদম কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে স্বচ্ছতার অভাব এসব উদ্বেগের অন্যতম কারণ। নিজেদের ডাটার সঙ্গে কী ঘটে সে সম্পর্কে গ্রাহক সতর্ক থাকেন, যা তাদের বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডগুলোর ওপরও বিশ্বাসকে দুর্বল করতে পারে।’

ডোগান গুরসয়ের মতে, এআইকে স্রেফ বাজার চলতি শব্দ হিসেবে বিবেচনা না করে আর কী করা যায় তা নিয়ে কোম্পানিগুলোকে ভাবতে হবে। এমন কোনো পদ্ধতি যা গ্রাহকের উদ্বেগ দূর করবে ও বিশ্বাস গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।