চলতি শীত মৌসুমের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোয় পর্যাপ্ত গ্যাস রয়েছে। তবে রাশিয়া সরবরাহ আরো কমিয়ে দিলে আগামী বছর ভয়াবহ গ্যাস সংকটে পড়তে পারে ব্লকটি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সোমবার এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। ব্যবহার কমিয়ে জ্বালানি সঞ্চয়ের জন্য সরকারগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতেও বলা হয়েছে।
চলতি বছর রাশিয়া ইইউর গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিলেও ইউরোপ ভয়াবহ সংকট এড়াতে সক্ষম হয়েছে। শীত মৌসুমের শুরুতেই অঞ্চলটি ট্যাংকগুলোয় গ্যাসের সর্বোচ্চ মজুদ নিশ্চিত করেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মজুদ বাড়ানোয় শীত মৌসুম নিয়ে উদ্বেগ নেই বললেই চলে। এক্ষেত্রে স্থিতিশীল আবহাওয়াও অঞ্চলটিতে সুবিধা দিচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাসের উচ্চ বাজারদরের কারণে পণ্যটির চাহিদাও কম।
এ বছর ইউরোপে গ্যাসের যে সংকট দেখা দিয়েছিল তাতে বিপাকে পড়ে গৃহস্থালিগুলো। পারিবারিক বাজেটের একটি বড় অংশই ব্যয় করতে হয়েছে জ্বালানির পেছনে। গ্যাসের ব্যয় সামলাতে না পেরে অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মজুদ ব্যাপক হারে বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাতে সাফল্যও আসে। তবে আগামী বছর পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা।
আইইএ বলছে, রাশিয়া এখনো যে ক্ষুদ্র পরিমাণ গ্যাস ইউরোপে সরবরাহ করছে তা যদি বন্ধ করে দেয় এবং কভিডসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় চীনে যদি আবারো গ্যাসের চাহিদা ঘুরে দাঁড়ায় তবে আগামী বছর ইইউতে ২ হাজার ৭০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সংকট দেখা দেবে। গত বছর ব্লকটি ৪১ হাজার ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করেছিল।
ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান কমিশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, এ সংকট ইউরোপের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আইইএ বলছে, ভর্তুকি বাড়ানোর মাধ্যমে এ সংকট এড়ানো যেতে পারে। এছাড়া গ্যাসের ব্যবহার কমানো, জীবাশ্ম জ্বালানির মাধ্যমে হিটিংয়ের পরিবর্তে হিট পাম্প ব্যবহার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ সংকট মোকাবেলায় বড় ভূমিকা রাখবে।
ফাতিহ বিরোল বলেন, আগামী দুই বছরের গ্যাসের ব্যয় কমিয়ে আনতে ১০ হাজার কোটি ইউরো বা ১০ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন।
ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফর ডার লিয়েন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি একটি যৌথ তহবিল গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন। জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের জন্য অর্থ সংগ্রহই হবে এ তহবিলের উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, চলতি বছরের জন্য ব্লকটিতে গ্যাসের সরবরাহ নিরাপদ। তবে আগামী বছরের জন্য ইইউকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, সমুদ্রপথে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ৫ ডিসেম্বর এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এর আগে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই রাশিয়া ইউরোপে জ্বালানি বিশেষ করে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কারণে সরবরাহ আরো কমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপ বিকল্প উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াচ্ছে। এক্ষেত্রে দেশটির বড় নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র।










