বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৭৫ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করেছে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। এ অর্থের ৩১ শতাংশ বা ২৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা দিয়ে কোম্পানির নতুন সাধারণ উৎপাদন ভবন নির্মাণের সম্মতি দিয়ে অইপিও প্রসপেক্টাস অনুমোদন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কিন্তু কোম্পানিটি তাদের বর্তমান ব্যবসার চাহিদার ভিত্তিতে এ অর্থের সঙ্গে নিজস্ব তহবিল থেকে বিনিয়োগের মাধ্যমে মোট ২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ভিন্ন ভিন্ন খাতে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিএসইসির অনুমোদন চাইবে কোম্পানিটির। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে ওষুধ খাতের কোম্পানিটি।
তথ্যানুসারে, কোম্পানিটি তাদের ক্ষুদ্র ভলিউম প্যারেন্টারাল ও চক্ষুবিদ্যা (এসভিপিও) সুবিধা আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের জন্য ১৩ কোটি ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করবে। একই সঙ্গে সাধারণ লিকুইড সুবিধা আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণে ৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। এর বাইরে কোম্পানিটি পশুস্বাস্থ্যের সুবিধা আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণে ৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং পিডি অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের পণ্যের বাজার চাহিদা মূল্যায়নের পর তারা আইপিও ব্যয় পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সাধারণ উৎপাদন ভবন নির্মাণের পর সেখানে পণ্য উৎপাদন শুরু করতে কোম্পানির অনেক সময়ের প্রয়োজন হবে। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানির পণ্যের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে নতুন সাধারণ উৎপাদন ভবন নির্মাণের এ অর্থ ভিন্ন ভিন্ন খাতে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ৩১ জুলাই অনুষ্ঠেয় কোম্পানির ষষ্ঠ ইজিএমে এ বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেয়া হবে। এ অনুমোদন নেয়ার পর সংশ্লষ্ট বিষয়ে বিএসইসির অনুমোদন চাইবে কোম্পানিটি। এখন পর্যন্ত তারা আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত ৭৫ কোটি টাকার ৫২ শতাংশ ব্যয় সম্পন্ন করেছে বলে নিশ্চিত করেছে কোম্পানিটি।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২২-২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের নিট বিক্রি হয়েছে ৪২৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৬৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট বিক্রি বেড়েছে ৫৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বা ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বা ২৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৫৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৩৯ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা ৯০ পয়সায়।
এদিকে চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট বিক্র হয়েছে ১৫০ কোটি ২৬ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১২২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। চলতি হিসাব বছরে তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৫ পয়সা।
সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৪২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৫২ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৪৩ টাকা ৪১ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৪১ টাকা ১৯ পয়সায়।
সর্বশেষ ক্রেডিট রেটিং অনুসারে, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-টু’। সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংস লিমিটেড (এনসিআর)।
গত বছরের ১৮ অক্টোবর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১০৭ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২৫০ কোটি ২১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১০ কোটি ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ২১৭।










