সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংক অব থাইল্যান্ড (বিওটি)। এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতিও লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে থাকবে বলে পূর্বাভাস করেছেন ব্যাংকটির নীতিনির্ধারকরা। একই সঙ্গে নীতি সুদহার পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করছে ব্যাংকটির মনিটারি পলিসি কমিটি (এমপিসি)। খবর ব্যাংকক পোস্ট।
বিওটির মনিটারি পলিসি গ্রুপের অ্যাসিসট্যান্ট গভর্নর ও মনিটারি পলিসি কমিটির সেক্রেটারি পিটি দিসিয়াতাত সম্প্রতি জানান, বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখে স্বল্প থেকে মধ্যম মেয়াদে নীতি সুদহার বাড়ানো হবে।
বিশ্লেষকরা জানান, বিওটি বিশ্বাস করে বিদ্যমান মুদ্রানীতি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে। তবে সরকারসহ অন্যদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে আগ্রহী এমপিসি। পাশাপাশি অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নীতি সুদহার সামঞ্জস্য করতে রাজি বিওটি।
মূল্যস্ফীতির চাপ কমে যাওয়ায় ঋণ ব্যয় কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানানোর পর সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী শ্রেষ্ঠথা থাভিসিন বিওটির গভর্নর সেথাপুট সুথিওয়ার্তের সঙ্গে সুদহার নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
পিটি দিসিয়াতাত জানান, বিওটি স্বীকার করেছে সুদহার বাড়ানোয় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বৈষম্য ঘটেছে, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এ কারণে ঋণগ্রহীতাদের সহায়তা করার জন্য নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বিওটি। এ পদক্ষেপগুলো ঋণ নিষ্পত্তি, তারল্য সংকট দূর করা ও আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
পিটি দিসিয়াতাত বলেন, ‘শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। তার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তন।’
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী করতে রাজস্ব নীতির গুরুত্ব তুলে ধরে পিটি দিসিয়াতাত বলেন, ‘কভিড-১৯ মহামারী থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার অব্যাহত। কিন্তু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিওটির আগের পূর্বাভাসের চেয়ে এখনো কম।’
এদিকে দেশটিতে বিদেশী পর্যটক বাড়লেও পর্যটন খাত থেকে রাজস্ব প্রত্যাশার চেয়ে কমেছে। দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদার কারণে রফতানি কমে যাওয়ায় শিল্পোৎপাদন পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি কমেছে। এছাড়া মহামারী-পরবর্তী প্রতিযোগিতায় অন্যান্য দেশের তুলনায় থাইল্যান্ডের প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর।
বিশ্লেষকরা জানান, বিওটি আশা করছে আগামী মাসগুলোয় সার্বিক মূল্যস্ফীতি অব্যাহতভাবে কমে আসবে।










