ইউরোপে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস রফতানি শুরু করেছে আজারবাইজান। ট্রান্স অ্যাড্রিয়াটিক পাইপলাইনের (টিএপি) মাধ্যমে এ রফতানি কার্যক্রম শুরু করার বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এর মধ্য দিয়ে রাশিয়ার আধিপত্যে থাকা আকর্ষণীয় জ্বালানি বাজারকে হুমকির মুখে ফেলার ইঙ্গিতও দিয়ে রাখল আজারবাইজান। খবর রয়টার্স।

ইউরোপে গ্যাসের বাজার ৩৪ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করে রাশিয়া। তবে নিজেদের বাজার বড় করার পরিকল্পনাও আছে তাদের। তুরস্কসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে এ বছর ১৭১-১৭২ বিলিয়ন কিউবিক মিটার (বিসিএম) থেকে বাড়িয়ে আগামী বছর ১৮৩ বিসিএম গ্যাস রফতানি করতে প্রত্যয়ী বৃহৎ এ দেশ।

এদিকে টিএপি হচ্ছে দক্ষিণের গ্যাস করিডোরের একটি অংশ, যা আজারবাইজান থেকে ইউরোপ পর্যন্ত ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি শুরু হয়েছে কাসপিয়ান সাগরের নিকটবর্তী আজারবাইজানের জায়ান্ট গ্যাসক্ষেত্র শাহ ডেনিজ থেকে।

রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টায় প্রকল্পটি সমর্থন দিচ্ছে ইউরোপিয়ান কমিশন, যেখানে আজারবাইজানের লক্ষ্য হচ্ছে ইউরোপিয়ান গ্যাসের বাজারে প্রতি বছর ১০ বিসিএম গ্যাস সরবরাহ করা। তারা আট বিসিএম গ্যাস দিতে যাচ্ছে ইতালিকে এবং বাকি দুই বিসিএম যাবে যৌথভাবে গ্রিস ও বুলগেরিয়ার কাছে। তারা এরই মধ্যে তুরস্ককেও গ্যাস সরবরাহ দেয়া শুরু করেছে।

দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষিণের গ্যাস করিডোর বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার সিস্টেমকে আরো শক্তিশালী করবে। এটি কাসপিয়ান অঞ্চলকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করবে।

শাহ ডেনিজ গ্যাসক্ষেত্র প্রথম ধাপের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে ২০০৬ সালে এবং প্রতি বছর আজারবাইজান, জর্জিয়া ও তুরস্কে ১০ বিসিএম গ্যাস সরবরাহ করে তারা। এরপর দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৮ সালে, যেখানে আরো ১৬ বিসিএম উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ায়। সূত্র: রয়টার্স