২০২৪-২৫ মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ৭ লাখ ৮৮ হাজার টনে। এতে ভোগ্যপণ্যটির সরবরাহ সংকুচিত থাকবে। ফলে দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উৎপাদন মৌসুম নিয়ে দেয়া প্রাথমিক পূর্বাভাসে এমনটা জানিয়েছে বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান গ্রিন পুল।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক চিনি ও জৈব জ্বালানির বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৩-২৪ মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক ঘাটতি ছিল ৪ লাখ ২৭ হাজার টন, যা ২০২২-২৩ মৌসুমের তুলনায় অনেক কম। ওই বছর বাজারে ৮৪ লাখ টন ঘাটতি ছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ মৌসুমে ভোগ্যপণ্যটির বৈশ্বিক বাজার ভারসাম্য অনেক বেশি সংকুচিত থাকবে। ফলে দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন বাস্তবতায় উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বিশ্ববাজারে চিনির মজুদও তলানিতে অবস্থান করছে। সরবরাহ ঘাটতির এ পূর্বাভাস সত্য হলে মজুদ আরো সংকুচিত হয়ে আসবে বলে জানিয়েছে গ্রিন পুল।
প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে চিনি উৎপাদন আগের মৌসুমের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৯ কোটি ৫৮ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। এটি হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় রেকর্ড সর্বোচ্চ উৎপাদন। এক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে থাইল্যান্ড। তবে ভারতে উৎপাদন কমার আশঙ্কা রয়েছে। পণ্যটির বৈশ্বিক ব্যবহার ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১৯ কোটি ৫৬ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে।
আগামী বছর আরো তীব্র অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে এশিয়ার চিনির বাজার। উৎপাদন ঘাটতির কারণে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে হিমশিম খেতে পারে রফতানিকারক দেশগুলো। এর পেছনে দায়ী করা হচ্ছে বৈরী আবহাওয়াকে। এ সময় সম্ভাব্য সংকট এড়াতে ক্রেতা দেশগুলো আমদানির পরিমাণ অন্যান্য বছরের তুলনায় লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়াতে পারে। ফলে ভোগ্যপণ্যটির দাম বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছার আশঙ্কা রয়েছে।
তথ্য বলছে, গত বছরের এপ্রিলে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) চিনির ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য বেড়ে এক যুগের সর্বোচ্চে পৌঁছায়।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের শীর্ষ চিনি রফতানিকারক দেশগুলোয় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে ঝুঁকি বাড়ছে পণ্যটির বৈশ্বিক সরবরাহে। স্থানীয় সরবরাহ নিশ্চিত করতে চিনি রফতানি ও প্রণোদনায় বিধিনিষেধ এবং শুল্কারোপ করছে শীর্ষ দেশগুলো। পণ্যটির বাণিজ্যিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে চলতি বছর এটির বৈশ্বিক দাম অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে।
থাইল্যান্ড এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ চিনি উৎপাদক ও রফতানিকারক। এল নিনোর প্রভাবে দেশটিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে গেছে। পানির অভাবে আখ আবাদে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। এঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটসের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) থাইল্যান্ডে আখ মাড়াইয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৮ কোটি ৫০ লাখ টনে। চিনি উৎপাদন হতে পারে ৯৮ লাখ টন। চলতি বছর দেশটির রফতানিও নিম্নমুখী থাকবে।










