বিটকয়েনের মূল্যবৃদ্ধির ফলে এক বছরে বিশ্বজুড়ে আরো ৭০ হাজার নতুন ক্রিপ্টো মিলিয়নেয়ার তৈরি হয়েছে। এতে অর্থনীতিতে শত শত বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন গবেষণা অনুসারে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি মূল্যের ক্রিপ্টো সম্পদ আছে এমন ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৭০০। সংখ্যাটি গত বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি।
ক্রিপ্টোর মাধ্যমে ধনী হওয়া নতুন এ শ্রেণীর ব্যয় ও বিনিয়োগের অভ্যাস নিয়ে নির্ভরযোগ্য গবেষণা এখনো খুব বেশি হয়নি। তবে অর্থনীতিবিদদের নতুন গবেষণাপত্র ক্রিপ্টো ওয়ালেটগুলো বিশ্লেষণ করে তাদের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও সামগ্রিক ব্যয়ের একটি ধারণা দিয়েছে।
ব্রিগহ্যাম ইয়াং ইউনিভার্সিটি ও নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ব্যতিক্রম বাদে ক্রিপ্টো ধনীরা ল্যাম্বরগিনি বা রোলেক্সের মতো বিলাসবহুল পণ্যে বেশি ব্যয় করেন না। বরং তাদের বেশির ভাগ খরচ হয় রেস্তোরাঁ, বিনোদন এবং সাধারণ নিত্যপণ্য ক্রয় বাবদ।
গবেষণায় আরো দেখা যায়, ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারীরা ডলারপ্রতি আয়ের বিপরীতে প্রায় ৯ দশমিক ৭ সেন্ট ব্যয় করেন, যা স্টক মার্কেট বা রিয়েল এস্টেট মুনাফার তুলনায় দ্বিগুণ। যেহেতু ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারীরা সাধারণত তরুণ, তাই তারা বয়স্ক বিনিয়োগকারীদের তুলনায় তাদের সম্পদের মুনাফা থেকে বেশি ব্যয় করে থাকেন।
গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, ক্রিপ্টোসম্পদ বৃদ্ধির কারণে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা ব্যয়ে ১৪৫ বিলিয়ন বা ১৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত যুক্ত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট ভোগের প্রায় দশমিক ৭ শতাংশ।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স ও নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথের প্রতিবেদন অনুসারে, ১০০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়েছে এমন ক্রিপ্টো সেন্টিমিলিয়নেয়ার আছেন ৪৫০ জন এবং ক্রিপ্টো বিলিয়নেয়ার আছেন ৩৬ জন।
এক বছরে বিটকয়েনের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এর প্রধান কারণ হলো ডলারের দরপতন, ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টোবান্ধব নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগকারী ও ঐতিহ্যবাহী আর্থিক পরিষেবা সংস্থাগুলোর ব্যাপক হারে ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্রহণ। সম্প্রতি বিটকয়েনের দাম প্রথমবারের মতো ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার অতিক্রম করেছে।
এখন বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের মোট মূল্য প্রায় ৪ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন বা ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার, যা তিন বছরে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে। ক্রিপ্টো উত্থানের ফলে বিশেষত তরুণ বিনিয়োগকারী ও মিলিয়নেয়ারদের সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ ক্রিপ্টো ধনীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। যেসব অঞ্চলে বেশি ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারী থাকেন, সেখানে যখন বিটকয়েনের দাম বাড়ে, তখন অন্য এলাকার তুলনায় বাড়ির দাম দশমিক ৪৬ শতাংশ দ্রুত হারে বাড়ে।
অন্যদিকে ক্রিপ্টো ট্রেডিং ফার্ম জেড২২ টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ফিলিপ বাউম্যান মনে করেন, বিটকয়েন এখন কেবল একটি অনুমানমূলক বিনিয়োগ না হয়ে একটি ‘সমান্তরাল আর্থিক ব্যবস্থার ভিত্তি’ হয়ে উঠছে।
ক্রিপ্টো ধনীরা তাদের ক্রিপ্টো সম্পদ বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ করতে পারছেন না বলে অনেক সময়ই সম্পত্তি কেনা তাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়। তবে পরিস্থিতি পাল্টাতে পারে। ক্রিপ্টো সম্পদকেও এবার বাড়ি কেনার ঋণের জন্য জামানত হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।










