আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ পেতে মরিয়া শ্রীলংকা। এজন্য বিদ্যুতের দাম ৬৬ শতাংশ বাড়াচ্ছে ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটি। খবর রয়টার্স।

দাম বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভবপর হবে বলে জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি শ্রীলংকানদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এমনিতেই ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতিতে নাকাল শ্রীলংকানরা। বিদ্যুতের আরেক দফা দাম বৃদ্ধি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে হাজির হচ্ছে। কিন্তু সরকারের সামনেও ঋণ নেয়া ছাড়া আপাতত কোনো বিকল্প নেই। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্বল্পতায় প্রয়োজনীয় আমদানিতে হিমশিম খাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি।

আজ এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রীলংকার জ্বালানিমন্ত্রী কাঞ্চনা বিজেসেকেরা বলেন, ‘‌আমরা জানি, এটা সাধারণের বিশেষ করে দরিদ্রদের জন্য খুব কঠিন হবে কিন্তু শ্রীলংকা এমন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে, যেখানে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।’

তিনি আরো জানান, এর মাধ্যমে আইএমএফ প্রোগ্রামের আওতায় ঋণ প্রাপ্তির আরো কাছে যাচ্ছে শ্রীলংকা।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করেছে সিলন ইলেকট্রিসিটি বোর্ডের (সিইবি) এক কর্মকর্তা। দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত ২৮ হাজার ৭০০ কোটি রুপি আয় বাড়াতে সক্ষম হবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি।

সাত দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শ্রীলংকা। গত সেপ্টেম্বরে আইএমএফের সঙ্গে ২৯০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার সমঝোতায় পৌঁছেছে ঋণভারে জর্জরিত দেশটি।

জ্বালানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে গত বছর ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল শ্রীলংকানরা। বিক্ষোভের জেরে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেকে। গত জুলাইয়ে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর আইএমএফসহ আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে ঋণ সহায়তা নিশ্চিতের চেষ্টা চালাচ্ছেন রনিল বিক্রমাসিংহে।