বায়ু টারবাইন ও সৌর প্যানেল ব্যবহার করে দেশের আবাসিক বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় পুরোটাই পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে চীন। এর মাধ্যমে দেশটি প্রায় প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। চীনের ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনইএ) জানিয়েছে, ২০২২ সালে দেশটির বায়ু ও সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন এক বছর আগের তুলনায় ২১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৯০ টেরাওয়াট ঘণ্টা হয়েছে। খবর ব্লুমবার্গ।

এনইএর তথ্যমতে, গত বছর চীনের আবাসিক বিদ্যুৎ খরচ ১৪ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে সামগ্রিক আবাসিক বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৪০ টেরাওয়াট ঘণ্টা। কেননা দেশটিতে সরকারের জিরো কভিড নীতি চালু থাকায় লোকজন বাধ্য হয়ে অধিকাংশ সময় ঘরে অবস্থান করেছে।

চীনের পাওয়ার সিস্টেম সম্পকির্ত এই দুটি পদ্ধতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তির দ্রুত প্রসার ঘটছে। ফলে দেশটি জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ব্যয়বহুল জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সাম্প্রতিক সময়ে খাতটিতে শতকোটি ডলার বিনিয়োগ করছে।

এছাড়া চীনের আবাসিক খাতের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণেও এর তুলনামূলক অপরিহার্যতা রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) তথ্যমতে, দেশটিতে ২০২০ সালে মাত্র ১৭ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহারকে আবাসিক হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছিল। একই বছরে জাপানে ২৯ শতাংশ ও যুক্তরাষ্ট্রে ৩৯ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যয় হয়েছে আবাসিক খাতে। চীনের কারখানাগুলোয় এ ধরনের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার ব্যাপক। দেশটির ইন্ডাস্ট্রি খাতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৬০ শতাংশ পূরণ হয় বায়ু টারবাইন ও সৌর বিদ্যুৎ থেকে। তাই প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সরবরাহের ক্ষমতা থাকলেও চীনের জেনারেটরগুলোকে এখনো অধিক জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। ফলে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ এখনই কমছে না।