চলতি বছর ইউরোপে ইস্পাতের চাহিদা প্রবৃদ্ধির হার ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরবরাহ চেইনে সংকট এবং জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম শিল্প উৎপাদন কার্যক্রমকে শ্লথ করে তুলেছে। এ বিষয়গুলো পণ্যটির চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মূল্যবৃদ্ধির এ ধাক্কা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে অটোমোবাইল খাতে। সম্প্রতি শিল্প গ্রুপ ইউরোফার এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে।
উৎপাদন এবং নিট রফতানি থেকে নিট আমদানি বাদ দিয়ে ইস্পাতের প্রাথমিক চাহিদা পরিমাপ করা হয়। প্রাথমিক পূর্বাভাসে দেখা গেছে, ২০২২ সালে ইউরোপে শিল্প ধাতুটির চাহিদা ৩ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে। অথচ আগের পূর্বাভাসে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। আগামী বছর চাহিদা প্রবৃদ্ধির হার আরো কমে ১ দশমিক ৭ শতাংশ নামতে পারে।
ইউরোপিয়ান স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের মহাব্যবস্থাপক অ্যালেক্স ইগার্ট বলেন, চলমান সরবরাহ চেইনের জটিলতা, আকাশচুম্বী জ্বালানি ও কার্বনের দাম এবং মূল্যস্ফীতির চাপ—সব মিলিয়ে ইস্পাত খাতে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়গুলো অন্তত চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ইস্পাতনির্ভর খাতে ধাতুটির চাহিদায় গুরুতর প্রভাব ফেলবে।
ইউরোপের সবচেয়ে বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফক্সওয়াগন। গত বছর কোম্পানিটির গাড়ি বিক্রি ১০ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। সরবরাহ চেইনের কারণে বছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন ও বিক্রি কমে যাওয়ায় এ খাতে ইস্পাতের চাহিদা তলানিতে ঠেকেছে। ইউরোফার কর্তৃক প্রকাশিত গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের তথ্যে দেখা গেছে, ওই সময় ইউরোপে ইস্পাতের চাহিদা আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল।










